আপডেট প্রতিনিধি, আগরতলা, ১৫ অক্টোবর || মানুষের জীবনে উন্নতির প্রতীক সিঁড়ি। সেই সিঁড়ি বেয়ে সভ্যতা এগিয়েছে একের পর এক ধাপ পেরিয়ে। পুতুল নিয়ে খেলা থেকে স্বয়ংক্রিয় রোবট তৈরি, সাধারণ যোগাযোগ ব্যবস্থা থেকে হাতে স্মার্টফোন—বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির হাত ধরে মানুষ পৌঁছেছে উন্নতির শিখরে। কিন্তু এই অগ্রগতির মাঝেই কি ক্রমশ হারিয়ে যাচ্ছে মানুষের নিজস্ব চিন্তাশক্তি ও স্বতন্ত্র পরিচয়? এমনই এক গভীর প্রশ্নকে সামনে রেখে শতদল সংঘের নিবেদন ‘সোপান—মানুষের জীবনের সিঁড়ি’।
‘সোপান’ শব্দের অর্থ সিঁড়ি। এই ভাবনাকে কেন্দ্র করেই সাজানো হয়েছে মণ্ডপের বিভিন্ন উপাদান, যেখানে আধুনিক সভ্যতার অগ্রগতির পাশাপাশি ফুটিয়ে তোলা হয়েছে প্রযুক্তিনির্ভর জীবনের নানা দিক। পুতুলের মাথায় ফাঁকা টিনের বাক্স মানুষের চিন্তাশক্তির শূন্যতার প্রতীক হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। বিভিন্ন পুতুলের মাধ্যমে স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়েছে অতীতকে। অন্যদিকে, প্লাস্টিকের মূর্তি ও বিশাল হাতের থাবার মধ্য দিয়ে প্লাস্টিকের গ্রাসে বন্দি মানুষের জীবনের এক প্রতীকী চিত্র ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।
মণ্ডপজুড়ে থাকা অসংখ্য ঘড়ি এবং কেন্দ্রে স্থাপিত ঘূর্ণাবর্ত সময়ের নিরন্তর আবর্তনকে তুলে ধরে। সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে মানুষ যেমন এগিয়ে চলেছে, তেমনই সেই অগ্রগতির প্রকৃত অর্থ নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। মণ্ডপের প্রবেশপথে থাকা দানবাকৃতি রোবট সেই ভাবনাকে আরও গভীর করেছে। মানুষেরই সৃষ্টি যন্ত্র যদি একদিন মানুষের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে, তাহলে ভবিষ্যতের পরিণতি কী হতে পারে—সেই আশঙ্কারই প্রতীকী প্রকাশ এই রোবট।
শতদল সংঘের এই ভাবনায় ‘সোপান’ কেবল উন্নতির কাহিনি নয়, বরং আধুনিক সভ্যতার সামনে দাঁড়িয়ে থাকা এক গুরুত্বপূর্ণ আত্মজিজ্ঞাসা। প্রযুক্তির ব্যবহার মানুষের জীবনকে সহজ ও গতিশীল করলেও তার ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা মানুষের চিন্তাশক্তি, মানবিকতা ও স্বকীয়তাকে কতটা প্রভাবিত করছে, সেই প্রশ্নই উঠে এসেছে এই উপস্থাপনায়।
শতদল সংঘের সভাপতি অধীর দেবনাথের নিবেদনে ‘সোপান’ মানুষের সামনে তুলে ধরেছে এক তাৎপর্যপূর্ণ বার্তা—উন্নতির সিঁড়িতে ওঠাই শেষ কথা নয়, সেই উন্নতির পথে মানুষ নিজের অস্তিত্ব ও পরিচয় কতটা ধরে রাখতে পারছে, সেটিও সমান গুরুত্বপূর্ণ। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অগ্রগতির সঙ্গে মানবিক মূল্যবোধ এবং নিজস্ব চিন্তাশক্তির সমন্বয়ই যে প্রকৃত উন্নতির চাবিকাঠি, সেই ভাবনাকেই সামনে এনেছে ‘সোপান’।
