আপডেট প্রতিনিধি, আগরতলা, ০৪ নভেম্বর || আগরতলা রেলস্টেশনে পার্কিং ফি আদায়কে কেন্দ্র করে এবার গুরুতর অভিযোগ উঠল পার্কিং বিভাগের কর্মীদের বিরুদ্ধে। মাত্র ২০ টাকা পার্কিং ফি দাবি করাকে কেন্দ্র করে এক মহিলা যাত্রীর সঙ্গে পার্কিং বিভাগের এক মহিলা কর্মীর বচসা থেকে হাতাহাতি ও শারীরিক হেনস্থার ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্টেশন চত্বরে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ায়। ইতিমধ্যেই গোটা ঘটনার বিবরণ জানিয়ে অভিযুক্ত কর্মীদের বিরুদ্ধে এফআইআর নথিভুক্ত করা এবং আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়েছেন অভিযোগকারী নীলাঞ্জনা ভট্টাচার্য।
অভিযোগকারীর দাবি, তিনি অটো থেকে নামার সময় গাড়িটি কোনও পার্কিং এলাকায় দাঁড় করানো হয়নি। এমনকি স্টেশনের প্রবেশপথ থেকে প্রায় ৫০ মিটার দূরে অটোটি থামানো হয়েছিল। তা সত্ত্বেও পার্কিং বিভাগের এক কর্মী তাঁর কাছে ২০ টাকা পার্কিং ফি দাবি করেন। কেন পার্কিং ফি নেওয়া হচ্ছে, তা জানতে চেয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মীদের কাছে নিয়ম ও নির্দেশিকা দেখতে চান তিনি। আর এই প্রশ্ন তোলার পর থেকেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ।
ঘটনার সময় স্টেশন চত্বরে বহু যাত্রী উপস্থিত থাকলেও অভিযুক্ত কর্মীদের দলের কেউ তাঁকে সাহায্য করতে এগিয়ে আসেননি বলে অভিযোগ। বরং কয়েকজন তাঁকে থামানোর চেষ্টা করেন বলে দাবি করেছেন নীলাঞ্জনা। এই গোটা ঘটনার জেরে তাঁর নির্ধারিত ট্রেন মিস হয়ে যায়। পাশাপাশি সময়মতো কর্মস্থলেও পৌঁছাতে পারেননি তিনি।
ইতিমধ্যে ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ দিয়ে অভিযুক্ত কর্মীদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক এফআইআর নথিভুক্ত করা এবং দোষীদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়ে প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন নীলাঞ্জনা ভট্টাচার্য।
তবে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে এসেছে। রেলস্টেশনে পার্কিং ফি আদায়ের নির্দিষ্ট নিয়ম কী? পার্কিং নির্ধারিত এলাকায় গাড়ি দাঁড় না করানো সত্ত্বেও কেন পার্কিং ফি দাবি করা হলো? কোনও যাত্রী নিয়ম জানতে চাইলে তাঁর সঙ্গে এমন আচরণের অভিযোগ কেন উঠবে? সর্বোপরি, রেলস্টেশনের মতো গুরুত্বপূর্ণ জনবহুল স্থানে যাত্রীদের নিরাপত্তা ও সম্মান রক্ষার দায়িত্ব কার?
একটি সামান্য পার্কিং ফি নিয়ে শুরু হওয়া বচসা যদি শেষ পর্যন্ত মহিলা যাত্রীর শারীরিক হেনস্থার অভিযোগে গড়ায়, তাহলে বিষয়টি নিঃসন্দেহে গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন। গোটা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, স্টেশনের সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা এবং অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে দায়ীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি উঠছে। পাশাপাশি রেল কর্তৃপক্ষের কাছ থেকেও এ বিষয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা প্রত্যাশা করছেন যাত্রীরা।
