সুব্রত দাস, গন্ডাছড়া, ২৯ জানুয়ারি || ধলাই জেলার গন্ডাছড়া মহকুমার অন্তর্গত জাপানপাড়া এলাকায় বৃহস্পতিবার সকালে মানব কঙ্কাল উদ্ধারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জাপানপাড়ার একটি গাছের পাশে মানব কঙ্কাল পড়ে থাকতে দেখে এলাকাবাসী সঙ্গে সঙ্গে গন্ডাছড়া থানায় খবর দেন।
খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় গন্ডাছড়া থানার পুলিশ। এলাকা ঘিরে রেখে শুরু হয় তদন্ত। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, উদ্ধার হওয়া কঙ্কালটি গন্ডাছড়ার হরিপুর বারো কার্ড এলাকার বাসিন্দা, প্রায় তিন মাস ধরে নিখোঁজ থাকা কাঠমিস্ত্রি সূর্য মোহন দাসের দেহাবশেষ হতে পারে। এই তথ্য প্রকাশ্যে আসতেই গোটা এলাকায় আতঙ্ক ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
জানা গেছে, সূর্য মোহন দাস গত ০৯ অক্টোবর ২০২৫ তারিখ থেকে নিখোঁজ ছিলেন। পরিবারের পক্ষ থেকে দীর্ঘদিন খোঁজাখুঁজি চালানোর পর গন্ডাছড়া থানায় একটি নিখোঁজ ডায়েরি করা হয়। কিন্তু তিন মাস অতিক্রান্ত হলেও তাঁর কোনো সন্ধান মেলেনি। পরিবারের অভিযোগ, এই সময়ে পুলিশ প্রশাসনের তরফে তদন্তে তেমন কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি।
বৃহস্পতিবার সকালে জাপানপাড়া এলাকায় মানব কঙ্কাল উদ্ধারের খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। আবেগঘন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় এলাকাজুড়ে। কান্না ও উৎকণ্ঠার আবহে বহু প্রশ্ন উঠে আসে এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে।
ঘটনাটি কি পরিকল্পিত খুন? নাকি কোনো অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনা? না কি এর পেছনে রয়েছে আরও গভীর কোনো রহস্য—এই সব দিক খতিয়ে দেখছে তদন্তকারী দল। প্রাথমিকভাবে বিষয়টিকে রহস্যজনক মৃত্যু হিসেবেই বিবেচনা করা হচ্ছে।
গন্ডাছড়া থানার ওসি অসীম সরকার সংবাদমাধ্যমকে জানান, উদ্ধার হওয়া কঙ্কালটি ফরেনসিক পরীক্ষা ও ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হবে। প্রয়োজনে DNA পরীক্ষার মাধ্যমেই পরিচয় নিশ্চিত করা হবে। নিখোঁজ ডায়েরির তথ্যের সঙ্গে সমস্ত দিক মিলিয়ে দেখা হচ্ছে। পরিবারের সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদও শুরু হয়েছে।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে জাপানপাড়া ও গন্ডাছড়া মহকুমার আশপাশের এলাকায় ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়েছে। সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন—তিন মাস ধরে একজন ব্যক্তি নিখোঁজ থাকার পরও কেন কোনো কার্যকর সূত্র পাওয়া গেল না? তদন্তে এত বিলম্ব কেন? এটি কি প্রশাসনিক গাফিলতি, নাকি এর আড়ালে রয়েছে আরও গভীর কোনো সত্য?
তদন্তের অগ্রগতির দিকেই এখন তাকিয়ে গোটা ধলাই জেলা।
