আপডেট প্রতিনিধি, সাব্রুম, ৩০ জুন || ন্যাশনাল ফিশ ফার্মার্স ডে উপলক্ষে দক্ষিণ ত্রিপুরার সাতচাঁদ মৎস্য দপ্তরের উদ্যোগে মঙ্গলবার “মাছের রেনু বিতরণ” কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে এলাকার বিশিষ্ট সমাজসেবী ও মৎস্যচাষী রবীন্দ্র সরকার নিজ উদ্যোগে এলাকার মৎস্যচাষীদের মধ্যে বিনামূল্যে এক লক্ষ মাছের পোনা বিতরণ করেন, যা উপস্থিত সকলের প্রশংসা কুড়িয়েছে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দক্ষিণ ত্রিপুরা জেলা পরিষদের সভাধিপতি দীপক দত্ত। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন সাতচাঁদ পঞ্চায়েত সমিতির চেয়ারম্যান প্রভাস লোধ এবং সাতচাঁদ মৎস্য দপ্তরের সুপারিন্টেন্ডেন্ট অজয় দাস।
অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত ভাষণ দেন রবীন্দ্র সরকার। তিনি জানান, ভবিষ্যতে এলাকার মৎস্যচাষীদের উন্নয়নের লক্ষ্যে একটি ‘মৎস্য সমবায় সমিতি’ গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সমবায় গঠনের মাধ্যমে স্থানীয় মৎস্যচাষ আরও সুসংগঠিত ও লাভজনক হবে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সভাধিপতি দীপক দত্ত বলেন, রবীন্দ্র সরকারের এই উদ্যোগ অত্যন্ত প্রশংসনীয়। নিজস্ব উদ্যোগে এক লক্ষ মাছের পোনা বিতরণ দক্ষিণ জেলার জন্য এক অনন্য দৃষ্টান্ত। তিনি আরও জানান, দক্ষিণ জেলাকে মৎস্য উৎপাদনে স্বাবলম্বী করে তুলতে প্রশাসন বিভিন্ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে।
সাতচাঁদ পঞ্চায়েত সমিতির চেয়ারম্যান প্রভাস লোধ বলেন, রবীন্দ্র সরকার সমাজের সামনে এক অনুকরণীয় নজির স্থাপন করেছেন। অন্য মৎস্যচাষীরাও তাঁর এই উদ্যোগ থেকে অনুপ্রাণিত হবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
শেষ বক্তা হিসেবে সাতচাঁদ মৎস্য দপ্তরের সুপারিন্টেন্ডেন্ট অজয় দাস বলেন, ত্রিপুরায় মাছের চাহিদা ক্রমাগত বাড়ছে। তাই অধিক সংখ্যক মানুষকে মাছ চাষে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি। তিনি জানান, সরকারি উদ্যোগে ইতোমধ্যে প্রায় ২০০টি পুকুর খনন করা হয়েছে, যার জন্য প্রায় ২ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে।
অনুষ্ঠানের শেষে উপস্থিত মৎস্যচাষীদের মধ্যে বিনামূল্যে মাছের পোনা বিতরণ করা হয়। পাশাপাশি পরিবেশের ভারসাম্য ও প্রাকৃতিক মৎস্যসম্পদ বৃদ্ধির লক্ষ্যে মনু নদীতেও মাছের রেনু অবমুক্ত করা হয়।
