রইস্যাবাড়ি সীমান্তে মাদক পাচারের অভিযোগ, অস্ত্র পাচারের আশঙ্কাও; প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

সুব্রত দাস, গন্ডাছড়া, ০৫ জুলাই || গন্ডাছড়া মহকুমার রইস্যাবাড়ি সীমান্ত এলাকাকে ঘিরে ব্যাপক মাদক পাচারের অভিযোগ উঠেছে। একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্রের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ব্রাউন সুগার, ইয়াবা ট্যাবলেট, এসকপ সিরাপ, গাঁজা, সিগারেট এবং বিভিন্ন ধরনের কাপড় গাড়িযোগে এনে তুইচাকমা বাজারের একটি নির্দিষ্ট দোকানে মজুত রাখা হচ্ছে। তবে এই অভিযোগগুলোর সত্যতা প্রশাসনিকভাবে এখনও নিশ্চিত করা হয়নি।
সূত্রের দাবি, প্রতিদিন সন্ধ্যা ৬টা থেকে ৭টার মধ্যে প্রায় ২০ থেকে ২৫ জন শ্রমিকের মাধ্যমে ওই মালামাল তুইচাকমা বাজার থেকে কালা বিজয় পাড়া হয়ে রতননগর সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে পাচার করা হচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে এই অবৈধ কার্যকলাপ চললেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
আরও অভিযোগ, তুইচাকমা এলাকার একটি স্থানীয় চক্র পাচারকারীদের সঙ্গে যুক্ত থেকে এই অবৈধ কারবার পরিচালনায় সহযোগিতা করছে। সূত্রের দাবি, পুরো নেটওয়ার্কের মূল নিয়ন্ত্রণ বাংলাদেশের দিঘীনালা ও বাবুছড়া এলাকায় অবস্থানকারী কয়েকজন ব্যক্তির হাতে রয়েছে। যদিও এই দাবিরও স্বাধীনভাবে কোনো সরকারি নিশ্চিতকরণ মেলেনি।
এদিকে, আরও একটি উদ্বেগজনক তথ্য সামনে এসেছে। একটি সূত্রের বরাতে জানা গেছে, মিজোরাম থেকে বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ দামছড়া হয়ে ছামনু অথবা রইস্যাবাড়ি সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে পাচারের চেষ্টা হতে পারে। আগামী তিন থেকে চার দিনের মধ্যে এ ধরনের চালান ত্রিপুরায় প্রবেশ করতে পারে বলেও সূত্রের দাবি। একই সূত্রের আশঙ্কা, এসব গোলাবারুদ ইউপিডিএফ-বিরোধী কোনো সংগঠনের কাছে পৌঁছাতে পারে। তবে এই তথ্যেরও কোনো সরকারি বা স্বাধীন নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে একটি নির্দিষ্ট সময়সূচি মেনে সীমান্তে অবৈধ পাচার চললেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা চোখে পড়ছে না। ফলে রইস্যাবাড়ি থানা ও সীমান্তরক্ষী বাহিনীর দায়িত্ব পালনের বিষয়টি নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
এলাকার সচেতন মহলের দাবি, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে রইস্যাবাড়ি সীমান্তে নজরদারি বাড়ানো, তুইচাকমা বাজারের অভিযোগে উল্লিখিত স্থানে প্রয়োজনীয় অভিযান পরিচালনা এবং সম্ভাব্য অস্ত্র পাচার রোধে আগাম প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।
উল্লেখ্য, এই প্রতিবেদনে উল্লিখিত তথ্যসমূহ বিভিন্ন সূত্র ও স্থানীয়দের অভিযোগের ভিত্তিতে প্রকাশিত হয়েছে। অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি এবং প্রশাসনিকভাবে এগুলো এখনও নিশ্চিত করা হয়নি।

FacebookTwitterGoogle+Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*