সাগর দেব, তেলিয়ামুড়া, ১০ জুলাই || টানা দু-তিন দিনের প্রবল বর্ষণের জেরে ফুলেফেঁপে উঠেছে খোয়াই নদী। নদীর জলস্তর দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ায় তেলিয়ামুড়া পুরপরিষদ এলাকার নদীতীরবর্তী বিভিন্ন নিম্নাঞ্চলে ইতিমধ্যেই বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। একাধিক পরিবারের বসতবাড়িতে নদীর জল ঢুকে পড়ায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে। সম্ভাব্য আরও জলবৃদ্ধির আশঙ্কায় নদীতীরবর্তী এলাকার মানুষ উদ্বেগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।
জানা গেছে, তেলিয়ামুড়া পুরপরিষদের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের শান্তিনগর, ৪ ও ৫ নম্বর ওয়ার্ডের দশমীঘাট, ৯ নম্বর ওয়ার্ডের নেতাজি নগর এবং গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার তৃষাবাড়ি, মোহরছড়া ও কল্যাণপুরের নদীতীরবর্তী বিভিন্ন অঞ্চলে ইতোমধ্যেই বেশ কয়েকটি পরিবারের বাড়িতে জল প্রবেশ করেছে। অনেকেই বাড়ির আসবাবপত্র, নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী ও মূল্যবান জিনিসপত্র নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে ব্যস্ত রয়েছেন।
অবিরাম বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় খোয়াই নদীর জলস্তর আরও বৃদ্ধি পেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ফলে বন্যা পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
অন্যদিকে, অতিবর্ষণের কারণে তেলিয়ামুড়া শহরের বিভিন্ন জনবসতি এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এতে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় কাজে দুর্ভোগের শিকার হতে হচ্ছে বাসিন্দাদের।
পরিস্থিতি পর্যালোচনায় বুধবার তেলিয়ামুড়া পুরপরিষদের বিভিন্ন ওয়ার্ড পরিদর্শন করেন বিধায়িকা কল্যাণী সাহা রায়। তাঁর সঙ্গে ছিলেন স্থানীয় মণ্ডল নেতৃত্ব, পুর কাউন্সিলর এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি আধিকারিকরা। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা ঘুরে দেখেন এবং শরণার্থী শিবিরে আশ্রয় নেওয়া পরিবারগুলোর সঙ্গে কথা বলে তাদের খোঁজখবর নেন।
পরিদর্শনকালে স্থানীয় বাসিন্দাদের বিভিন্ন সমস্যার কথা মনোযোগ দিয়ে শোনেন বিধায়িকা। পাশাপাশি দ্রুত জল নিষ্কাশন, প্রয়োজনীয় ত্রাণসামগ্রী সরবরাহ এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়াতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় নির্দেশ প্রদান করেন।
