গোপল সিং, খোয়াই, ১০ জুলাই || সিপাহীজলা জেলার অন্তর্গত জম্পুইজলা মহকুমার পরিকাঠামো উন্নয়ন ও জনস্বার্থবাহী একাধিক জরুরি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার দাবিতে তিপ্রামথা পার্টির নেতা ড. সুনীল কলাই আজ সিপাহীজলা জেলার জেলাশাসক ও সমাহর্তা-র কাছে একটি ৪ দফা সংবলিত দাবিদাওয়া পত্র বা স্মারকলিপি পেশ করেন।
জম্পুইজলা হলো ত্রিপুরার অন্যতম বৃহৎ এবং উপজাতি অধ্যুষিত একটি অন্যতম ঘনবসতিপূর্ণ অঞ্চল। ভৌগোলিক ও কৌশলগত দিক থেকে এই এলাকার গুরুত্ব অপরিসীম হলেও এবং জনসংখ্যা ক্রমাগত বৃদ্ধি পেলেও, এখনও পর্যন্ত সাধারণ মানুষের জীবনধারণের জন্য বেশ কিছু মৌলিক ও অতিপ্রয়োজনীয় সরকারি সুযোগ-সুবিধা এখানে গড়ে ওঠেনি। আর এই অভাব দূর করতেই আজ প্রশাসনের সর্বোচ্চ মহলের হস্তক্ষেপ দাবি করা হয়েছে।
ড. সুনীল কলাই তাঁর আবেদনে উল্লেখ করেছেন যে, জম্পুইজলা মহকুমার হাজার হাজার মানুষের দুর্ভোগ কমাতে অবিলম্বে নিম্নলিখিত ৪টি পরিকাঠামো গড়ে তোলার জন্য জেলাশাসকের কাছে সনির্বন্ধ তিনি অনুরোধ জানান। তিনি লিখেন, এলাকায় কোনো ডিগ্রি কলেজ না থাকায় বিশেষ করে অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়া উপজাতি পরিবারের ছাত্র-ছাত্রীদের উচ্চশিক্ষার জন্য প্রতিদিন মাইলের পর মাইল দূরবর্তী স্থানে যাতায়াত করতে হচ্ছে। কোনো ফায়ার স্টেশন না থাকায় এলাকায় আগুন লাগলে বা কোনো প্রাকৃতিক বিপর্যয় ঘটলে জরুরি ভিত্তিতে উদ্ধারকার্য শুরু করতে মারাত্মক বিলম্ব হয়, যার ফলে জানমালের ক্ষয়ক্ষতি বাড়ে। জম্পুইজলায় কোনো জ্বালানি স্টেশন নেই।
এবং পেট্রোল পাম্প বা সিএনজি স্টেশন না থাকার কারণে স্থানীয় চালক, কৃষক, সাধারণ মানুষ ও জরুরি পরিষেবার গাড়িগুলোকে শুধুমাত্র জ্বালানি সংগ্রহ করতে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হয়।
ড. সুনীল কলাই তাঁর আবেদনে আরও উল্লেখ করেছেন যে, জম্পুইজলা পার্শ্ববর্তী অসংখ্য গ্রাম ও জনপদের জন্য একটি প্রধান প্রশাসনিক, শিক্ষাগত এবং বাণিজ্যিক কেন্দ্র হিসেবে কাজ করে। ফলে এই ৪টি পরিকাঠামো যদি সেখানে দ্রুত গড়ে তোলা যায়, তবে তা এলাকার অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন নিশ্চিত করবে, যুবসমাজের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করবে, জননিরাপত্তা বৃদ্ধি করবে এবং সর্বপরি প্রত্যন্ত এলাকার ছাত্র-ছাত্রীদের উচ্চশিক্ষার পথ সুগম করবে।
জেলাশাসকের দপ্তর আজই এই স্মারকলিপিটি গ্রহণ করেছে। এলাকার সাধারণ মানুষের বৃহত্তর কল্যাণের স্বার্থে প্রশাসন যাতে এই ন্যায্য ও যৌক্তিক দাবিগুলির ওপর দ্রুত ইতিবাচক পদক্ষেপ গ্রহণ করে, তার জন্য জম্পুইজলাবাসী আশায় বুক বেঁধেছেন।
