খোয়াই রাধানগর স্ট্যান্ড থেকে ৪ সন্দেহভাজন বাংলাদেশী আটক: সীমান্ত পেরিয়ে অনুপ্রবেশ ও জাল নথিপত্র চক্র নিয়ে ক্ষুব্ধ জনতা

গোপল সিং, খোয়াই, ১০ জুলাই || বাংলাদেশী নাগরিক ত্রিপুরায় ধরা পড়লেই তাদের সাথে জাল ভোটার কার্ড, জাল বার্থ সার্টিফিকেট এবং আধার কার্ড উদ্ধার হচ্ছে। এই অবৈধ মেলবন্ধনকে জনগণ ‘ত্রিবেনী সঙ্গম’ বলে উল্লেখ করছেন। আজ খোয়াই রাধানগর স্ট্যান্ড এলাকা থেকে ৪ জন সন্দেহভাজন বাংলাদেশী নাগরিককে আটক করেছে পুলিশ। আজকের ঘটনায় এখনও কোনো জাল সার্টিফিকেট উদ্ধার হয়েছে কিনা তা প্রকাশ্যে না আসলেও, এযাবত বাংলাদেশের নাগরিক ত্রিপুরায় আটকের ঘটনার পর সীমান্তে নিরাপত্তা এবং অনুপ্রবেশকারীদের ভারতীয় নথি পাইয়ে দেওয়ার এক চাঞ্চল্যকর চক্র নিয়ে স্থানীয় জনগণের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
জনগণের অভিযোগ, খোয়াই সীমান্তকে করিডোর করে প্রায় প্রতিদিন সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশ থেকে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করছে বাংলাদেশের নাগরিকরা। পুলিশের জালে মাঝেমধ্যে ২ থেকে ৪ জন ধরা পড়লেও, সিংহভাগ অনুপ্রবেশকারীই প্রশাসনের নজর এড়িয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে পড়ছে। জনগণের দাবি, এটি একটি সুসংগঠিত আন্তর্জাতিক মানব পাচার চক্রের কাজ, যা সীমান্তের ওপার থেকে এপার পর্যন্ত জালের মতো ছড়িয়ে রয়েছে। জনগণের মতে, বাংলাদেশ থেকে ভারতে প্রবেশের সাথে সাথেই এই অনুপ্রবেশকারীদের হাতে খুব সহজে পৌঁছে যাচ্ছে ভারতীয় পরিচয়পত্র। জনগণের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ, এ দেশে পা রাখতেই চক্রের মাধ্যমে তৈরি হয়ে যাচ্ছে জাল ভোটার কার্ড এবং শিশুদের বার্থ সার্টিফিকেট (জন্ম শংসাপত্র)। এমনকি অত্যন্ত সংবেদনশীল আধার কার্ডের মতো পরিচয়পত্রও এই চক্রটি অবৈধ উপায়ে ভুয়ো নথির ভিত্তিতে তৈরি করে দিচ্ছে। এই ধরণের জাল নথির সাহায্যে অনুপ্রবেশকারীরা অনায়াসেই নিজেদের ভারতীয় নাগরিক হিসেবে পরিচয় দেওয়ার সুযোগ পেয়ে যাচ্ছে, যা দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার ক্ষেত্রে এক মারাত্মক হুমকি।
ত্রিপুরা রাজ্যের বাংলাদেশ সীমান্তলাগুয়া খোয়াই। আর এই খোয়াই দিয়েই ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত পেরিয়ে অবৈধ অনুপ্রবেশ ও মানব পাচারের গ্রাফ ক্রমশ ঊর্ধ্বমুখী। সীমান্তবর্তী এলাকায় দিনের পর দিন এভাবে মানব পাচার এবং জাল পরিচয়পত্র তৈরির রমরমা কারবার চললছে। আজ খোয়াই রাধানগর স্ট্যান্ড থেকে ৪ জন আটক হওয়ার পর, ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে এই মানব পাচারের মূল পান্ডাদের খুঁজে বের করার জন্য পুলিশের কাছে জোর দাবি জানিয়েছেন খোয়াইবাসী।

FacebookTwitterGoogle+Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*