ছয় বছর পর ফের সাতচাঁদ-সাব্রুম ইনস্পেক্টরেটের মাসিক সভা, শিক্ষার মানোন্নয়নে জোর

নবারুণ চক্রবর্তী, সাব্রুম, ১০ জুলাই || দীর্ঘ প্রায় ছয় বছর পর দক্ষিণ ত্রিপুরার সাতচাঁদ ও সাব্রুম ইনস্পেক্টরেটের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হলো মাসিক সমন্বয় সভা। বিদ্যালয় পরিদর্শক (Inspector of Schools) হিসেবে রঞ্জন দেবনাথ দায়িত্ব গ্রহণের পর এই প্রথম এ ধরনের সভার আয়োজন করা হয়। সভায় দুই ইনস্পেক্টরেটের অধীন বিভিন্ন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক-শিক্ষিকা, শিক্ষা দপ্তরের আধিকারিক এবং দক্ষিণ জেলার শিক্ষা আধিকারিক দিলীপ চন্দ্র দাস উপস্থিত ছিলেন।
সভায় বিদ্যালয়গুলোর সার্বিক শিক্ষার মানোন্নয়ন, একাডেমিক কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করা, জাতীয় শিক্ষা নীতি (NEP)-এর আলোকে পাঠদান, শিক্ষার্থীদের নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করা, নির্ধারিত সময়ে বিদ্যালয় পরিচালনা এবং শিক্ষকদের সময়মতো বিদ্যালয়ে উপস্থিতির বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। পাশাপাশি বিদ্যালয়ে শৃঙ্খলা বজায় রাখা, পাঠদানের গুণগত মান বৃদ্ধি, সরকারি শিক্ষামূলক কর্মসূচির যথাযথ বাস্তবায়ন এবং শিক্ষার্থীদের সার্বিক বিকাশে শিক্ষকদের আরও সক্রিয় ভূমিকা পালনের ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হয়।
সভায় বিদ্যালয় পরিদর্শক রঞ্জন দেবনাথ বলেন, শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নে নিয়মিত তদারকি অত্যন্ত জরুরি। তাই দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই তিনি ডেপুটি বিদ্যালয় পরিদর্শকদের সঙ্গে নিয়ে ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন বিদ্যালয় পরিদর্শন করছেন। পরিদর্শনের সময় বিদ্যালয়ের উপস্থিতি, শ্রেণিকক্ষের পাঠদান, প্রশাসনিক কার্যক্রম, অবকাঠামোগত পরিস্থিতি এবং সরকারি নির্দেশিকা বাস্তবায়নের বিষয়গুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কোথাও কোনো ত্রুটি বা সমস্যা ধরা পড়লে তা দ্রুত সমাধানের জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনাও দেওয়া হচ্ছে বলে তিনি জানান।
তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতেও নিয়মিত মাসিক সভার মাধ্যমে বিদ্যালয়গুলোর সমস্যা, অগ্রগতি এবং বিভিন্ন শিক্ষাবিষয়ক বিষয় পর্যালোচনা করা হবে। শিক্ষক, প্রধান শিক্ষক ও শিক্ষা দপ্তরের মধ্যে সমন্বয় আরও জোরদার করে শিক্ষার্থীদের মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করাই এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য।
দীর্ঘ বিরতির পর মাসিক সভা পুনরায় শুরু হওয়ায় শিক্ষক মহলেও ইতিবাচক সাড়া পড়েছে। উপস্থিত শিক্ষক-শিক্ষিকারা আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের নিয়মিত সভা ও বিদ্যালয় পরিদর্শনের ফলে শিক্ষা ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা আরও সুদৃঢ় হবে, একাডেমিক পরিবেশের উন্নতি ঘটবে এবং সামগ্রিকভাবে শিক্ষার গুণগত মান বৃদ্ধিতে তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

FacebookTwitterGoogle+Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*