গোপল সিং, খোয়াই, ৩১ জুলাই || বিদ্যালয় চত্বরে ভিমরুলের বাসা থাকার আগাম সতর্কবার্তা দেওয়া সত্ত্বেও নেওয়া হয়নি কোনো ব্যবস্থা। আর তার খেসারত দিতে হলো খুদে পড়ুয়াদের। খোয়াই সরকারি দ্বাদশ শ্রেণী (বিদ্যাজ্যোতি পরিচালিত) বিদ্যালয়ের প্রাথমিক বিভাগে ভিমরুলের কামড়ে তিন ছাত্র আহত হওয়ার ঘটনায় গোটা এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। ভিমরুলের আক্রমণের সময় প্রিন্সিপল ব্যতীত কোনো শিক্ষক স্টাফরুম থেকেই বের হয়নি বলেও অভিযোগ তুলছেন অভিভাবকরা। এমনকি অভিভাবকরা নিজের সন্তানদের রক্ষা করতে এগিয়ে গেলেও, বরং অভিভাবকদেরই হেনস্থা হতে হয় বলেও অভিযোগ অভিভাবকদের।
জানা গেছে, শুক্রবার সকালে বিদ্যালয়ের মর্নিং শিফটের ছুটির ঠিক শেষ লগ্নে এই দুর্ঘটনাটি ঘটে। বিদ্যালয় চত্বরের চারপাশে গজিয়ে ওঠা ঝোপঝাড় ও আগাছার মধ্যে একটি ভিমরুলের বাসা ছিল। আচমকাই সেই বাসা থেকে ঝাঁক বেঁধে ভিমরুল বেরিয়ে এসে মাঠে থাকা কয়েকজন ছাত্রকে লক্ষ্য করে আক্রমণ শুরু করে। ভিমরুলের কামড়ে ঘটনাস্থলেই গুরুতর আহত ও অসুস্থ হয়ে পড়ে তৃতীয় শ্রেণির ছাত্র নিলাঞ্জিত গোপ এবং চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র গৌরব দাস সহ আরও এক খুদে পড়ুয়া। তড়িঘড়ি আহত তিন ছাত্রকে উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়।
উল্লেখ্য, বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এই বিপজ্জনক ভিমরুলের বাসা থাকার বিষয়টি নিয়ে আগেই সংবাদমাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছিল। কোমলমতি ছাত্র-ছাত্রীদের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর আশঙ্কা প্রকাশ করে যেকোনো সময় বড়সড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে প্রশাসন ও স্কুল কর্তৃপক্ষকে সতর্ক করেছিল অভিভাবকরাও। কিন্তু অভিযোগ, সংবাদ প্রকাশের পরও বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ভিমরুলের বাসাটি অপসারণ করার বা পড়ুয়াদের নিরাপত্তামূলক কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। আজকের এই অনভিপ্রেত ঘটনার পর ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন অভিভাবকরা। এই ঘটনার জেরে স্কুল কর্তৃপক্ষের চরম উদাসীন ভূমিকা নিয়ে ইতিমধ্যেই নানা মহলে তীব্র সমালোচনার ঝড় উঠেছে।
