গোপাল সিং, খোয়াই, ০১ আগস্ট || রামচন্দ্রঘাট বিধানসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত স্কুলগুলোতে স্থায়ী প্রধান শিক্ষক নিয়োগের জন্য গত কর্মসূচিতে যে দাবি উঠেছিল, তা এবার আরও জোরালো রূপ নিল। এই বিধানসভা কেন্দ্রের মোট ৯টি বিদ্যালয়ে কোনো স্থায়ী প্রধান শিক্ষক নেই, যার ফলে স্কুলগুলোর প্রশাসনিক কাজ ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি পড়ুয়াদের ভবিষ্যৎ ও পড়াশোনার পঠনপাঠন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এলাকার সাধারণ মানুষের এই ক্ষোভ ও দাবির কথা লিখিত আকারে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ড. মানিক সাহার কাছে পাঠালেন রামচন্দ্রঘাট বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক রঞ্জিত দেববর্মা।
গত ৩০শে জুলাই ২০২৬ তারিখে পাঠানো এক চিঠিতে বিধায়ক রঞ্জিত দেববর্মা মুখ্যমন্ত্রীকে জানান যে, রামচন্দ্রঘাট বিধানসভা এলাকার বিদ্যালয়গুলোতে দীর্ঘদিন ধরে কোনো প্রধান শিক্ষক নেই, এমনকি বহু স্কুলে সহকারী প্রধান শিক্ষকও নেই। অভিভাবকহীন এই স্কুলগুলোর প্রশাসনিক কাঠামো ভেঙে পড়েছে এবং পাঠ্যক্রম সঠিকভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হচ্ছে না। চিঠিতে ওই বিধানসভা কেন্দ্রের ৯টি স্কুলের যে বাস্তব চিত্র তুলে ধরা হয়েছে, তা অনুযায়ী—গৌরাঙ্গটিলা এইচ/এস স্কুল, রতনপুর এইচ/এস স্কুল এবং আম্পুরা এইচ/এস স্কুলে প্রধান শিক্ষক ও সহকারী প্রধান শিক্ষক উভয় পদই সম্পূর্ণ শূন্য রয়েছে। এছাড়া বাইজালবাড়ি এইচ/এস স্কুল, বড়োময়দান এইচ/এস স্কুল এবং বীরচন্দ্রপুর এইচ/এস স্কুলে কোনো প্রধান শিক্ষক নেই, সেখানে কেবল একজন করে সহকারী প্রধান শিক্ষক রয়েছেন। এর মধ্যে বড়োময়দান এইচ/এস স্কুলের সহকারী প্রধান শিক্ষকও আগামী সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর মধ্যে অবসরে চলে যাবেন। পাশাপাশি হাই স্কুলগুলোর মধ্যে কেএমআর হাই স্কুল, দেবেন্দ্র চৌধুরী হাই স্কুল এবং ওয়ান্ডালওয়াং হাই স্কুলেও কোনো স্থায়ী প্রধান শিক্ষক নেই।
চিঠিতে বিধায়ক আরও উল্লেখ করেন, সম্প্রতি বাইজালবাড়ি দ্বাদশ শ্রেণী বিদ্যালয়ের নতুন স্কুল ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের জন্য এলাকার মানুষ মুখ্যমন্ত্রীর কাছে অত্যন্ত কৃতজ্ঞ। তবে স্কুলগুলোর এই প্রশাসনিক শূন্যতা ও “অভিভাবকহীন” পরিস্থিতি দূর করতে সহানুভূতিশীল বিবেচনার সাথে দ্রুত স্থায়ী প্রধান শিক্ষক ও সহকারী প্রধান শিক্ষক নিয়োগ করার জন্য তিনি মুখ্যমন্ত্রীর কাছে জোরালো অনুরোধ জানিয়েছেন। স্থানীয় বাসিন্দা ও অভিভাবকদের দাবি, প্রশাসন যেন আর দেরি না করে অবিলম্বে এই স্কুলগুলোতে শিক্ষক নিয়োগের যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করে।
