সুব্রত দাস, গন্ডাছড়া, ০১ আগস্ট || একদিকে সরকারিভাবে বনমোৎসব পালন করে বৃক্ষরোপণ ও পরিবেশ সংরক্ষণের বার্তা দেওয়া হচ্ছিল, অন্যদিকে একই দিনে গণ্ডাছড়া মহকুমার মৎস্য খামার এলাকায় বহু বছরের পুরনো গাছ নির্বিচারে কেটে ফেলার অভিযোগকে কেন্দ্র করে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনাকে ঘিরে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভের পাশাপাশি উঠেছে একাধিক প্রশ্ন। অভিযোগের তীর গণ্ডাছড়া মহকুমার মৎস্য দপ্তরের মৎস্য সুপার মদন ত্রিপুরার দিকে। যদিও এই অভিযোগের বিষয়ে দপ্তরের পক্ষ থেকে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার মৎস্য খামার সংলগ্ন এলাকায় প্রায় সাত থেকে আটটি বড় গাছের ডালপালা কেটে ফেলা হয়। এর মধ্যে কয়েকটি গাছ সম্পূর্ণভাবে গুঁড়ি থেকে কেটে ফেলার অভিযোগও উঠেছে। এলাকাবাসীর একাংশের দাবি, মৎস্য সুপারের নির্দেশে টাকার বিনিময়ে এক ব্যক্তিকে দিয়ে গাছগুলি কাটা হয়েছে। আবার অন্য একটি অংশের অভিযোগ, লাকড়ির উদ্দেশ্যে গাছগুলি বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে। তবে এই অভিযোগগুলির স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
স্থানীয়দের দাবি, কাটা পড়া গাছগুলি বহু বছরের পুরনো ছিল। গাছগুলির ছায়ায় এলাকাবাসী বিশ্রাম নিতেন, শিশু-কিশোররা খেলাধুলা করত। দীর্ঘদিন ধরে পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের অংশ হয়ে ওঠা এসব গাছ হঠাৎ করেই কেটে ফেলার ঘটনায় বিস্ময় ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বাসিন্দারা।
এলাকাবাসীর প্রশ্ন, যদি গাছ কাটার পেছনে কোনও আর্থিক লেনদেন না-ই থেকে থাকে, তবে এতদিন ধরে দাঁড়িয়ে থাকা গাছগুলি এমন কী সমস্যা সৃষ্টি করেছিল যে সেগুলি কেটে ফেলতে হলো? তাদের দাবি, এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের পক্ষ থেকে স্পষ্ট ব্যাখ্যা না মেলায় সন্দেহ আরও জোরালো হচ্ছে।
ঘটনাটি আরও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে কারণ একই দিনে প্রশাসনের উদ্যোগে বনমোৎসব পালন করে বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে পরিবেশ রক্ষার বার্তা দেওয়া হয়। সেই দিনই একটি সরকারি দপ্তরের বিরুদ্ধে গাছ কাটার অভিযোগ ওঠায় পরিবেশ সংরক্ষণে সরকারের অবস্থান ও বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা।
পরিবেশপ্রেমী ও সচেতন মহলের বক্তব্য, একজন সরকারি আধিকারিকের বিরুদ্ধে যদি এ ধরনের অভিযোগ ওঠে, তবে সাধারণ মানুষের কাছে পরিবেশ সচেতনতার বার্তা কতটা গ্রহণযোগ্য হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়। তাদের মতে, বহু বছরের পুরনো গাছ কেটে ফেলা একটি অপরিবর্তনীয় ক্ষতি, যার প্রভাব দীর্ঘমেয়াদে পরিবেশের ওপর পড়তে পারে।
ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে দোষী প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণেরও দাবি উঠেছে। পাশাপাশি দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বিষয়টি সম্পর্কে অবগত ছিলেন কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তারা।
তবে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এই অভিযোগের বিষয়ে এখনও পর্যন্ত মৎস্য দপ্তর বা অভিযুক্ত আধিকারিকের পক্ষ থেকে কোনও আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। প্রশাসনের তদন্তের পরই প্রকৃত ঘটনা সামনে আসবে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।
