গোপাল সিং, খোয়াই, ০১ সেপ্টেম্বর || খোয়াই মহকুমার অজগরটিলা গ্রামের চরগণকী এলাকায় নদীভাঙন ভয়াবহ আকার ধারণ করায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। প্রায় ৫০০ মিটার এলাকাজুড়ে নদীর ভাঙনে গ্রামের প্রধান সড়কটি ক্রমশ নদীগর্ভে চলে যাচ্ছে বলে অভিযোগ। এর ফলে দমকল, অ্যাম্বুলেন্স ও স্কুলের গাড়ি চলাচল কার্যত বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে সমস্যার সমাধান না হওয়ায় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন গ্রামবাসীরা।
গ্রামবাসীদের অভিযোগ, বিগত কয়েক বছর ধরে নদী থেকে নিয়মিত বালি উত্তোলন এবং ভাঙন রোধে নিম্নমানের বোল্ডার ব্যবহারের কারণে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়েছে। নদীর স্বাভাবিক গতিপথ ও পাড় ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে রাস্তার নিচের মাটি ধসে পড়ছে। বর্তমানে রাস্তার একটি বড় অংশ অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, গুংরাইছড়া ব্রিজ সংলগ্ন এলাকা থেকে পহরমুড়া জল উত্তোলন কেন্দ্র পর্যন্ত প্রায় ৫০০ মিটার নদীপাড়ে স্থায়ীভাবে কংক্রিটের বোল্ডার বাঁধ নির্মাণ করা হোক। তাঁদের দাবি, অতীতে এই এলাকায় বোল্ডার ফেলে কংক্রিট ঢালাইয়ের মাধ্যমে শক্তিশালী সাইড বাঁধ নির্মাণ করা হয়েছিল। সময়ের সঙ্গে সেই বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হলেও দীর্ঘদিন ধরে তা পুনর্নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ।
গ্রামবাসীদের আরও অভিযোগ, নদীভাঙন কবলিত এলাকার দুই প্রান্তে বালি উত্তোলনের মেশিন বসিয়ে নিয়মিত বালি তোলা হচ্ছে। বালি উত্তোলনকারীদের বৈধ অনুমতি বা লাইসেন্স থাকার কথা বলা হলেও এর ফলে নদীপাড়ের স্থিতিশীলতা নষ্ট হচ্ছে বলে স্থানীয়দের দাবি।
অজগরটিলা গ্রামের প্রধান সড়কটির ওপর নির্ভর করে একটি সরকারি ও একটি বেসরকারি স্কুলের ছাত্রছাত্রীরা যাতায়াত করে। কিন্তু রাস্তার অবস্থা বিপজ্জনক হয়ে পড়ায় স্কুলের গাড়ি চলাচলেও সমস্যা দেখা দিয়েছে। পাশাপাশি কোনো দুর্ঘটনা, অগ্নিকাণ্ড বা অসুস্থতার মতো জরুরি পরিস্থিতিতে অ্যাম্বুলেন্স ও দমকলের গাড়ি গ্রামে প্রবেশ করতে না পারায় উদ্বেগ আরও বেড়েছে।
গ্রামের প্রবীণ বাসিন্দা তথা অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী কালিপদ চক্রবর্তী অভিযোগ করেন, সমস্যার সমাধানের জন্য জেলা প্রশাসন, পূর্ত দপ্তর, বন দপ্তর এবং বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও জলসম্পদ দপ্তরে একাধিকবার লিখিত আবেদন জানানো হলেও এখনও স্থায়ী সমাধান হয়নি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, রাস্তা ভেঙে যাওয়ার পর মাঝে মাঝে নিম্নমানের বোল্ডার ফেলে সাময়িকভাবে সংস্কারের চেষ্টা করা হয়। কিন্তু বর্ষার জল বা নদীর স্রোতে সেই কাজ দ্রুত নষ্ট হয়ে যায়। ফলে সরকারি অর্থ ব্যয় হলেও সমস্যার স্থায়ী সমাধান হচ্ছে না বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তাঁরা।
এদিকে, দীর্ঘদিনের এই সমস্যার সমাধানে খোয়াই ব্লক প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলির দ্রুত হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন অজগরটিলা ও চরগণকী এলাকার বাসিন্দারা। তাঁদের দাবি, পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হওয়ার আগেই বৈজ্ঞানিক সমীক্ষার মাধ্যমে স্থায়ী নদীতীর সংরক্ষণ ব্যবস্থা এবং শক্তিশালী কংক্রিট বোল্ডার বাঁধ নির্মাণ করতে হবে। একইসঙ্গে গ্রামের প্রধান সড়কটিকেও স্থায়ীভাবে রক্ষার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
