সুব্রত দাস, গন্ডাছড়া, ৩১ আগস্ট || গণ্ডাছড়া মহকুমার বঙ্করঘাট এলাকায় নদীর জলে অজ্ঞাতপরিচয় এক ব্যক্তির মৃতদেহ ভেসে ওঠাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। মৃতদেহটির গলায় ইটভর্তি একটি বস্তা বাঁধা অবস্থায় পাওয়া যাওয়ায় ঘটনাটিকে ঘিরে রহস্য আরও ঘনীভূত হয়েছে। প্রাথমিকভাবে মৃত ব্যক্তি পুরুষ বলে অনুমান করা হলেও এখনও তাঁর পরিচয় জানা যায়নি।
জানা গেছে, রবিবার সন্ধ্যায় স্থানীয় বাসিন্দারা নদীর জলে একটি মৃতদেহ ভাসতে দেখতে পান। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পুলিশ ও প্রশাসনের আধিকারিকরা। দীর্ঘ সময় পর রাত প্রায় ১০টা নাগাদ মৃতদেহটি উদ্ধার করা হয়। দেহ উদ্ধারে বিলম্ব হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মৃতদেহটির গলায় একটি বস্তার মধ্যে তিনটি ইট ভরে তা বাঁধা ছিল। এরপর দেহটি নদীর জলে ফেলে দেওয়া হয়ে থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে এটি স্বাভাবিক মৃত্যু, দুর্ঘটনা নাকি পরিকল্পিতভাবে হত্যার পর দেহটি জলে ফেলে দেওয়া হয়েছে—তা নিয়ে তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না।
মৃতদেহটি শনাক্ত করার মতো অবস্থায় না থাকায় এখনও পরিচয় প্রকাশ করা সম্ভব হয়নি। পরিধানের পোশাক দেখে প্রাথমিকভাবে মৃত ব্যক্তি পুরুষ বলে অনুমান করা হচ্ছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার তদন্তে আগরতলা থেকে ফরেনসিক বিশেষজ্ঞদের দল ঘটনাস্থলে আসবে। ময়নাতদন্ত ও ফরেনসিক পরীক্ষার পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে।
উল্লেখযোগ্যভাবে, যে অংশে মৃতদেহটি পাওয়া গেছে সেখানে নদীর জল তুলনামূলকভাবে স্থির এবং তীব্র স্রোত নেই। ফলে মৃতদেহটি অন্য কোনো এলাকা থেকে ভেসে এসেছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে গোটা গণ্ডাছড়া মহকুমায় জল্পনা ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। মৃত ব্যক্তির পরিচয় এবং কীভাবে তাঁর মৃত্যু হয়েছে, সেই রহস্যের দ্রুত কিনারা করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে এবং তদন্তের অগ্রগতির দিকেই এখন নজর রয়েছে।
