বিশ্বেশ্বর মজুমদার, শান্তিরবাজার, ১৩ অক্টোবর || সহায়িকা উপস্থিত থাকলেও অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে নিয়মিত উপস্থিত থাকেন না কর্মী। কখনও বিনা অনুমতিতে ছুটিতে চলে যাওয়া, কখনও আবার শিশু ও গর্ভবতী মহিলাদের জন্য বরাদ্দ খাবার সঠিকভাবে সরবরাহ না করার অভিযোগ উঠেছে অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীর বিরুদ্ধে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
ঘটনাটি জোলাইবাড়ি সিডিপিও-র অধীন মুহুরীপুর আর এফ পঞ্চায়েত এলাকার মধুলা সর্দার পাড়া অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের। অভিযোগ, এই কেন্দ্রের কর্মী সুস্মিতা শীল নিয়মিতভাবে কর্মস্থলে উপস্থিত থাকেন না। এমনকি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবগত না করেই তিনি ইচ্ছেমতো ছুটিতে চলে যান বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। এর ফলে অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে পড়তে আসা কচিকাঁচাদের পঠনপাঠন ব্যাহত হচ্ছে বলে দাবি এলাকাবাসীর।
শুধু তাই নয়, এলাকার শিশু ও গর্ভবতী মহিলাদের জন্য বরাদ্দ পুষ্টিকর খাবারও নিয়ম মেনে সরবরাহ করা হয় না বলে অভিযোগ উঠেছে। এই বিষয়গুলি নিয়ে সংশ্লিষ্ট অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীর সঙ্গে কথা বলতে গেলে তিনি এলাকাবাসীর সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন বলেও অভিযোগ। স্বাভাবিকভাবেই এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে অসন্তোষ ক্রমশ বাড়ছে।
এদিকে, বুধবার আচমকাই মধুলা সর্দার পাড়া অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে পরিদর্শনে যান জোলাইবাড়ির সিডিপিও দীপক দেব। সেখানে তিনি স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাঁদের কাছ থেকে অভিযোগের বিস্তারিত তথ্য জানার চেষ্টা করেন।
পরিদর্শনকালে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে সিডিপিও দীপক দেব জানান, বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে এবং এ ব্যাপারে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
এখন দেখার বিষয়, স্থানীয় বাসিন্দাদের উত্থাপিত অভিযোগের ভিত্তিতে প্রশাসন কী ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করে। একই সঙ্গে অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের পরিষেবা স্বাভাবিক রাখা, শিশুদের পঠনপাঠন নিশ্চিত করা এবং উপভোক্তাদের কাছে নির্ধারিত পুষ্টিকর খাবার পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কতটা কার্যকর ভূমিকা গ্রহণ করে, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছেন এলাকাবাসী।
