সাব্রুমে প্রশাসনের বড়সড় অভিযান, কালাছড়া ও মনুবাজারে লক্ষাধিক টাকার অবৈধ বাজি বাজেয়াপ্ত

নবারুণ চক্রবর্তী, সাব্রুম, ১৩ অক্টোবর || আসন্ন উৎসবের মরশুমে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে অবৈধ বাজি ও আতশবাজির মজুতদারদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করল দক্ষিণ জেলা প্রশাসন। জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও কালেক্টরের নির্দেশে এবং সাব্রুম মহকুমা শাসকের তত্ত্বাবধানে গত ১২ অক্টোবর সাব্রুম মহকুমার কালাছড়া ও মনুবাজার এলাকার বিভিন্ন দোকান ও গুদামে যৌথভাবে আকস্মিক অভিযান চালানো হয়। এই অভিযানে বিপুল পরিমাণ অবৈধ ও উচ্চ শব্দযুক্ত বাজি ও আতশবাজি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে, যার আনুমানিক বাজারমূল্য লক্ষাধিক টাকা বলে জানা গেছে। অভিযানে নেতৃত্ব দেন সাব্রুম মহকুমা শাসকের কার্যালয়ের ডেপুটি কালেক্টর ও ম্যাজিস্ট্রেট রতন দাস, ডেপুটি কালেক্টর ও ম্যাজিস্ট্রেট প্রবীর দত্ত এবং সাব্রুম মহকুমার এসডিপিও দীপ্তনু বিশ্বাস। তাঁদের সঙ্গে পুলিশ ও প্রশাসনের অন্যান্য আধিকারিকরাও উপস্থিত ছিলেন। অভিযান চলাকালীন কালাছড়া ও মনুবাজারের বিভিন্ন দোকানে তল্লাশি চালিয়ে বৈধ লাইসেন্স বা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ছাড়া মজুত রাখা বিপুল পরিমাণ বাজি ও আতশবাজি উদ্ধার করা হয়। বাজেয়াপ্ত সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে দিলখুশ, ম্যাজিক, পিনটস, টিউবরি, কিটক্যাট, ১০০০ শটসের শব্দবাজি, সুপার স্টার, জুগমুগ ৩০০০, রকেট বোম, তুফান ও কালার কোটিসহ বিভিন্ন ধরনের আতশবাজি। কালাছড়া এলাকার অপূর্ব ভ্যারাইটিজ ও দেবনাথ ভ্যারাইটিজ ভাণ্ডার এবং মনুবাজারের স্বপন চন্দ্র বিশ্বাস ও পিন্টু দেবনাথের দোকান থেকে এই সামগ্রী বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে বলে জানা গেছে। স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও বাজার কমিটির প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে বাজেয়াপ্ত সামগ্রীর তালিকা প্রস্তুত করা হয়। জনবহুল বাজারে অবৈধভাবে বাজি ও বিস্ফোরকজাতীয় সামগ্রী মজুত রাখার ফলে অগ্নিকাণ্ডসহ বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকায় প্রশাসনের এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন এলাকার বহু সচেতন নাগরিক। তাঁদের মতে, বিশেষ করে উৎসবের মরশুমে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ ধরনের নজরদারি ও অভিযান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অন্যদিকে, প্রশাসনের লাগাতার অভিযানে অবৈধ কারবারের সঙ্গে যুক্ত কিছু ব্যক্তি ও মহলের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে বলেও স্থানীয় সূত্রে দাবি করা হচ্ছে। এমনকি আগামী দিনে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকলে প্রশাসনিক আধিকারিকদের উপর হামলার পরিকল্পনা করা হচ্ছে বলেও স্থানীয় মহলে গুঞ্জন ছড়িয়েছে। তবে এই অভিযোগের স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি। উৎসবের মরশুমে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে অবৈধ বাজি ও আতশবাজির মজুত এবং বিক্রির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে প্রশাসন। প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে, জননিরাপত্তা বিঘ্নিত করতে পারে এমন বেআইনি কার্যকলাপের বিরুদ্ধে আগামী দিনেও নজরদারি ও অভিযান অব্যাহত থাকবে। কালাছড়া ও মনুবাজারে প্রশাসনের এই অভিযানকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

FacebookTwitterGoogle+Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*