বিশ্বেশ্বর মজুমদার, শান্তিরবাজার, ১৯ অক্টোবর || বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসব শারদীয় দুর্গোৎসবকে কেন্দ্র করে উৎসবের আনন্দে মেতে উঠেছে গোটা রাজ্য। এরই মধ্যে ঐতিহ্য ও প্রাচীন সংস্কৃতিকে তুলে ধরে বিশেষ আয়োজনের মধ্য দিয়ে দুর্গাপূজার সূচনা করল শান্তির বাজার পূর্বপাড়া দুর্গাপূজা কমিটি। এবছর ৪০ বছরে পদার্পণ করেছে পূর্বপাড়ার এই দুর্গাপূজা। প্রায় ১২ লক্ষ টাকা বাজেটে পূজার আয়োজন করা হয়েছে।
এবছর পূর্বপাড়া দুর্গাপূজা কমিটির মূল থিম ‘খড়ের ঘরে দুর্গা সাজে’। বর্তমান ডিজিটাল যুগে খড় ও ছন দিয়ে তৈরি গ্রামীণ বাড়িঘর এবং সেখানকার ঐতিহ্যবাহী জীবনযাত্রা ক্রমশ হারিয়ে যাচ্ছে। সেই বিলুপ্তপ্রায় গ্রামীণ সংস্কৃতিকে নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরতেই খড় ও ছন দিয়ে তৈরি পুরনো দিনের ঘরবাড়ি এবং অতীতের বিভিন্ন সামগ্রীর আদলে সাজিয়ে তোলা হয়েছে পূজামণ্ডপ। ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির মেলবন্ধনে দেবী আরাধনার এই বিশেষ উদ্যোগ দর্শনার্থীদের কাছে আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠবে বলে আশা করছেন উদ্যোক্তারা।
শুধু পূজার আয়োজনেই সীমাবদ্ধ নয়, সামাজিক দায়বদ্ধতার দিকেও বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে পূজাকমিটি। পূজাকে কেন্দ্র করে নেশামুক্ত সমাজ গড়ার লক্ষ্যে বিভিন্ন নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। পাশাপাশি কমিটির উদ্যোগে স্বচ্ছ ভারত অভিযানসহ একাধিক সামাজিক কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।
শনিবার সকালে সপ্তমী পূজার শুভ সূচনা উপলক্ষে স্থানীয় মহিলা, পুরুষ ও যুবক-যুবতীরা একত্রিত হয়ে লাউগাং নদীতে যান। সেখানে বৈদিক মন্ত্রোচ্চারণের মধ্য দিয়ে গঙ্গা আনয়নের প্রথা পালন করা হয়। এই ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়েই শুরু হয় সপ্তমী পূজার আনুষ্ঠানিকতা।
এদিন পূজার বিভিন্ন দিক সম্পর্কে সংবাদমাধ্যমের সামনে বিস্তারিত বক্তব্য তুলে ধরেন পূজাকমিটির কোষাধ্যক্ষ। পাশাপাশি পূজার দিনক্ষণ ও ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান সম্পর্কে তথ্য তুলে ধরেন পূর্বপাড়া দুর্গাপূজার দায়িত্বে থাকা পুরোহিত।
সব মিলিয়ে, ঐতিহ্যবাহী গ্রামীণ সংস্কৃতিকে ফিরিয়ে আনা, ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালন এবং সামাজিক সচেতনতার বার্তা—এই তিনের মেলবন্ধনে শান্তির বাজার পূর্বপাড়া দুর্গাপূজা কমিটির এবারের আয়োজন ঘিরে শান্তির বাজার মহকুমাজুড়ে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
