গোপাল সিং, খোয়াই, ১৯ অক্টোবর || প্রশাসনিক উদাসীনতা এবং দায়িত্বশীলতার চরম অভাবে আবারও কাঠগড়ায় উঠল পুলিশ প্রশাসন। ভিভিআইপিদের কঠোর নিরাপত্তা বলয় সামলাতে গিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যখন সম্পূর্ণ ব্যস্ত, ঠিক সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে খোয়াই জেলার বিভিন্ন প্রান্তে মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে নেশার সাম্রাজ্যের ‘কিংপিং’রা। কল্যাণপুর, মহাদেবটিলা, বনকর ও সিঙ্গিছড়ায় গোপনে বিপুল পরিমাণে নেশাসামগ্রী মজুত করা হচ্ছে বলে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। পুলিশের কড়া নজরদারি এড়িয়ে চলা এই রমরমা অবৈধ কারবার সম্পর্কে প্রশাসন ওয়াকিবহাল নয়, এমন দাবিকে একসুরে উড়িয়ে দিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সচেতন জনসাধারণ।
আসন্ন শারদীয় দুর্গোৎসবের মরসুম এবং সরকারি নিয়ম মেনে নির্দিষ্ট মদের কাউন্টার ও লাইসেন্সপ্রাপ্ত দোকানগুলি বন্ধ থাকার সুযোগটিকে অত্যন্ত সুচারুভাবে কাজে লাগাচ্ছে মাদক পাচারকারীরা। বাজারে মাদকের কৃত্রিম সংকটকে পুঁজি করে বিকল্প ও অবৈধ নেশাসামগ্রীর জোগান দিতে ময়দানে নেমে পড়েছে ‘কিংপিং’রা। সূত্রের খবর অনুযায়ী, খোয়াইয়ের বিভিন্ন গোপন আস্তানা ও লোকালয়ে বেআইনি মাদকদ্রব্য মজুত করা হলেও পুলিশের তরফ থেকে কোনো আগাম প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।
এদিকে চাম্পাহাওড় এলাকায় পুলিশি তল্লাশিতে কিছু মাদক উদ্ধারের পর প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাফল্যের ঢাকঢোল পেটানো হলেও, স্থানীয় সাধারণ মানুষের একাংশ একে স্রেফ একটি ‘আই-ওয়াশ’ বলে অভিহিত করেছেন। জনগণের অভিযোগ, গুটিকয়েক কারবারীকে ধরে বাহবা কুড়ানোর চেষ্টা চলছে, অথচ পর্দার আড়ালের ‘কিংপিং’রা দিব্যি বহাল তবিয়তে তাদের নেটওয়ার্ক পরিচালনা করে চলেছে।
পুলিশ প্রশাসনের এই দায়িত্বজ্ঞানহীন ও খামখেয়ালী মনোভাবের কারণে উৎসবের দিনগুলিতে অপরাধমূলক কার্যকলাপ, চুরি, ছিনতাই এবং যুবসমাজের অবক্ষয় আরও বহুগুণ বৃদ্ধি পাওয়ার প্রবল আশঙ্কা করছেন স্থানীয় প্রবীণ ও সচেতন নাগরিকরা। ভিভিআইপি ডিউটির অজুহাতে সাধারণ মানুষের জীবন ও নিরাপত্তাকে ঝুঁকির মুখে ফেলে দেওয়ার এই প্রবণতার তীব্র সমালোচনা করে অবিলম্বে খোয়াই জেলার প্রতিটি প্রান্তে মাদক ও অবৈধ কারবারের বিরুদ্ধে স্থায়ী ও কঠোর অভিযান চালানোর জোরালো দাবি উঠেছে।
