বিশ্বেশ্বর মজুমদার, শান্তিরবাজার, ১৯ অক্টোবর || বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসব শারদীয় দুর্গোৎসব। এই উৎসবকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন ক্লাব ও পূজা কমিটি নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে দর্শনার্থীদের আনন্দ দেওয়ার চেষ্টা করে। সেই ধারাবাহিকতায় এ বছরও ব্যতিক্রমী উদ্যোগ গ্রহণ করেছে শান্তির বাজার মহকুমার গঞ্জেরটিলা বিপদনাশিনী মন্দির দুর্গাপূজা কমিটি। ছোট পরিসরে পুজোর আয়োজন করা হলেও দর্শনার্থীদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে পৌরাণিক কাহিনিনির্ভর মানবমূর্তি প্রদর্শনী।
স্থানীয় শিল্পীদের সহযোগিতায় এই মানবমূর্তি তৈরি করা হয়েছে। পৌরাণিক ধর্মগ্রন্থ থেকে বিভিন্ন কাহিনি ও ঘটনা বেছে নিয়ে সেগুলিকে মানবমূর্তির মাধ্যমে তুলে ধরার উদ্যোগ নিয়েছে পূজা কমিটি। অভিনব এই আয়োজন দেখতে দক্ষিণ ত্রিপুরা জেলা ছাড়াও রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে দর্শনার্থীদের সমাগম ঘটছে। বিশেষ করে সপ্তমীর রাতে মানবমূর্তি দেখতে ব্যাপক ভিড় লক্ষ্য করা যায়।
পূজা কমিটির উদ্যোক্তারা সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে জানান, এবছর তাঁদের দুর্গাপূজা দশম বছরে পদার্পণ করেছে। অন্যদিকে, তাঁদের উদ্যোগে আয়োজিত মানবমূর্তি প্রদর্শনী এ বছর দ্বিতীয় বছরে পদার্পণ করেছে। এবারের দুর্গাপূজার বাজেট আনুমানিক তিন থেকে সাড়ে তিন লক্ষ টাকা। দর্শনার্থীদের জন্য পাঁচ দিন ধরে এই মানবমূর্তি প্রদর্শনী চালু রাখা হবে বলেও জানান তাঁরা।
পূজা কমিটির উদ্যোক্তারা আরও জানান, দুর্গাপূজা শেষে যদি উদ্বৃত্ত অর্থ থাকে, তাহলে সেই অর্থ দিয়ে সামাজিক কর্মসূচি গ্রহণের পরিকল্পনা রয়েছে তাঁদের। উৎসবের আনন্দের পাশাপাশি সামাজিক দায়বদ্ধতা পালনের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন অনেকে।
সব মিলিয়ে, গঞ্জেরটিলা বিপদনাশিনী মন্দির দুর্গাপূজা কমিটির মানবমূর্তি প্রদর্শনী এ বছর দর্শনার্থীদের কাছে বিশেষ আকর্ষণ হয়ে উঠেছে। ধর্মীয় ভাবনা, স্থানীয় শিল্পীদের সৃজনশীলতা এবং সামাজিক দায়বদ্ধতার সমন্বয়ে এই উদ্যোগ দুর্গোৎসবের আনন্দকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে।
