আশাবাড়ি কাণ্ডে পুলিশের বড়সড় অভিযান, গ্রেপ্তার আরও ৮, মোট ধৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৮, কলমচৌড়া থানার সামনে অভিযুক্তদের পরিবারের কান্নার রোল, এলাকায় প্রশাসনের জমি জরিপ শুরু

আপডেট প্রতিনিধি, আগরতলা, ০৬ নভেম্বর || আশাবাড়ি কাণ্ডকে কেন্দ্র করে প্রশাসনের তৎপরতা ক্রমশ বাড়ছে। গত ২ নভেম্বর সোমবার আশাবাড়ি এলাকায় বিএসএফের ৪৯তম ব্যাটালিয়নের জওয়ান ও আধিকারিকদের উপর হামলা এবং সরকারি গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনায় এবার আরও ৮ জনকে গ্রেপ্তার করল পুলিশ। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে এই ৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর ফলে এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত মোট গ্রেপ্তারের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৮।
ঘটনার পর থেকেই পরিস্থিতির উপর কড়া নজর রেখেছে রাজ্য প্রশাসন ও পুলিশ। সীমান্ত এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা, নিরাপত্তা বাহিনীর উপর হামলার ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করা এবং অবৈধ কার্যকলাপ বন্ধে প্রশাসনের তরফে একাধিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে।
এরই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার আগরতলার টিআইএফটি কনফারেন্স হলে রাজ্যের সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যালোচনায় এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে পৌরহিত্য করেন মুখ্যমন্ত্রী। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন রাজ্য প্রশাসন, পুলিশ, বিএসএফ, সিআরপিএফ এবং অসম রাইফেলসের পদস্থ আধিকারিকরা। আশাবাড়ির ঘটনায় তদন্তের অগ্রগতি ও গৃহীত পদক্ষেপ সম্পর্কে বিস্তারিত খোঁজখবর নেন তিনি। সীমান্তে চোরাচালানের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী। একই সঙ্গে সীমান্ত নিরাপত্তা আরও জোরদার করার উপর গুরুত্ব আরোপ করেন তিনি।
অন্যদিকে, সীমান্ত সুরক্ষা নিশ্চিত করতে আশাবাড়ি এলাকায় প্রশাসনের উদ্যোগে শুরু হয়েছে জমি জরিপ ও সীমানা নির্ধারণের কাজ। বিএসএফের অনুরোধের ভিত্তিতে আশাবাড়ি বর্ডার আউটপোস্টের (বিওপি) জমি চিহ্নিত করার প্রক্রিয়া শুরু করেছে মহকুমা প্রশাসন। ওই জমিতে কোনও অবৈধ দখল বা নির্মাণ থাকলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসনের আধিকারিকরা। চোরাকারবারি হোক কিংবা অবৈধ অনুপ্রবেশকারী—সীমান্ত এলাকায় কোনও বেআইনি কার্যকলাপকেই প্রশ্রয় দেওয়া হবে না, এমনই কঠোর অবস্থান প্রশাসনের।
এদিকে, আশাবাড়ি কাণ্ডে গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের পরিবার-পরিজনদের মধ্যে ব্যাপক উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে। অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের পর কলমচৌড়া থানার সামনে তাঁদের পরিবারের সদস্যদের কান্নায় ভেঙে পড়তে দেখা যায় বলে জানা গিয়েছে। পরিবারের তরফে গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের মুক্তির দাবিও জানানো হয়েছে। ফলে একদিকে প্রশাসনের কঠোর অবস্থান, অন্যদিকে অভিযুক্তদের পরিবারের সদস্যদের আবেগঘন প্রতিবাদ—সব মিলিয়ে এলাকায় তৈরি হয়েছে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি।
উল্লেখ্য, আশাবাড়ির এই ঘটনা শুধু একটি হামলার ঘটনা নয়, বরং আন্তর্জাতিক সীমান্তের নিরাপত্তা এবং সীমান্তকেন্দ্রিক অপরাধ দমনের ক্ষেত্রে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। পুলিশের তদন্ত ও প্রশাসনের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে এখন তাকিয়ে রয়েছে গোটা রাজ্য।

FacebookTwitterGoogle+Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*