ঘূর্ণিঝড়ে বিধ্বস্ত খোয়াইয়ের ক্ষতিগ্রস্থ এলাকা পরিদর্শন করে আর্থিক সাহায্যের ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর

cmগোপাল সিং, খোয়াই, ০৭ মে ৷৷ রবিবার রাতে প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে বিধ্বস্ত খোয়াই মহকুমার পদ্মবিল ব্লকের অধীন দক্ষিন বেলছড়া এডিসি ভিলেজের সাতনিতল গ্রাম। আস্ত ঘর ভেঙে পড়ে মর্মান্তিক মৃত্যু হল এক মহিলার। গুরুতর জখম কমপক্ষে ১২ জন। আহতদের চিকিৎসা চলছে খোয়াই জেলা হাসপাতালে। চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় হীরামণি সাঁওতাল নামে ঐ মহিলার। মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে ১৯টি গবাদী পশুর। ঘটনার বিবরনে জানা যায়, রবিবার রাত আনুমানিক সোয়া দশটা নাগাদ খোয়াই মহকুমার দক্ষিন বেলছড়া এডিসি ভিলেজের সাতনিতল গ্রামের উপর দিয়ে প্রবল ঘূর্ণিঝড় বয়ে যায়। মাত্র ২০ সেকেন্ড স্থায়ী এই ঘূর্ণিঝড়ে গ্রামের প্রায় ৬০টি ঘর-বাড়ীর সবক’টিই ভূপতিত হয়। তছনছ হয়ে পড়ে গোটা গ্রাম। ভেঙে পড়ে গাছপালা, বৈদ্যুতিক খুঁটি ও তার। গাছপালা আছড়ে পড়ে বাড়ী-ঘরগুলিতে। মুহুর্তেই বিভীষিকার রূপ নেয় ঘূর্ণিঝড়। কেউ কারোর সাহায্যের জন্য এগিয়ে আসার সুযোগই পায়নি ঐ কুড়ি সেকেন্ড। নিজের বিবেক-বুদ্ধিকে কাজে লাগিয়ে গ্রামের ৬০ পরিবার নিজ নিজ লোকদের নিরাপদ আশ্রয়ে নিয়ে যাবার জোর চেষ্টা চালাতে শুরু করে। বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধদের। এর মধ্যেই হীরামলি সাঁওতাল (৫৩) নামে এক মহিলার উপর আস্ত একটা ঘর ভেঙে পড়ে। মহিলার স্বামী তখন সন্তানদের নিরাপদ আশ্রয়ে নিয়ে যেতে ব্যস্ত। গ্রামের কেউই নিজেদের পালিত গবাদি পশুকে সুরক্ষিত স্থানে নিয়ে যাবার সুযোগটুকু পায়নি। যেকারনে মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে গ্রামের ১৯টি গবাদি পশুর। একে একে গ্রামের প্রায় প্রতিটি বাড়ী-ঘরের উপর গাছপালা, বৈদ্যুতিক খুঁটি ভেঙে পড়তে থাকে। ধান ও ফসলের জমি লন্ডভন্ড। ঘরের টিনের ছাউনি উড়ে গেছে। বহু বাড়ী-ঘরের টিনের ছাউনি খোঁজে পাওয়া যায়নি। কুড়ি সেকেন্ড স্থায়ী ঘূর্ণিঝড় থামার পরই এই বিভৎস্য দৃশ্য ফুটে উঠে। গ্রামবাসীদের চোখে-মুখে আতঙ্কের ছাপ তখনও স্পষ্ট। ভোর হতেই একে অপরের সাহায্যে ছুটোছুটি শুরু হয়। আহতদের নিয়ে যাওয়া হয় খোয়াই জেলা হাসপাতালে। ঝড়ের প্রভাবে টেলি পরিষেবা স্তব্ধ হয়ে পড়ে। যোগাযোগ করার সাধ্য ছিলনা গ্রামবাসীর। নিজেরাই উদ্যোগ নিয়ে প্রাথমিক ঝটকা সামাল দেন। ঘটনার খবর পেয়ে সোমবার সকালে ছুটে যান মহকুমা শাসক বিম্বিসার ভট্টাচার্য্য, জেলা শাসক ড. সিন্দিপ এন মাহাত্ব্যে সহ বিপর্য্যয় মোকাবিলা দল। যুদ্ধকালীন তৎপরতায় শুরু হয় উদ্ধার কাজ। হাত লাগান গ্রামবাসীরাও। ক্ষতিগ্রস্থ ৬০টি পরিবারের সদস্যদের জন্য প্রশাসন থেকে বেলছড়া স্কুলে খোলা হয় দুটি অস্থায়ী শিবির। প্রশাসনের তরফে ত্রান সামগ্রী ও শুকনো খাবার পৌছে দেওয়া হয়েছে। সকাল থেকে শুরু হয়ে উদ্ধার কাজ চলতে থাকে। ধ্বংসাবশেষ সরিয়ে প্রচুর গবাদি পশুকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্থ পরিবার তাদের ঘরবাড়ী থেকে মূল্যবান সম্পত্তি পর্যন্ত উদ্ধার করতে পারেনি।
এদিকে সোমবার বিকেলে মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব দক্ষিন বেলছড়া এডিসি ভিলেজের ক্ষতিগ্রস্থ সাতনিতল গ্রামটি ঘুরে দেখেন। সাথে ছিলেন সমাজ কল্যান ও সমাজ শিক্ষা দপ্তরের মন্ত্রী সান্তনা চাকমা, মুখ্যসচেতক কল্যাণী রায়। ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারগুলির সাথে সাক্ষাৎ করেন মুখ্যমন্ত্রী। সেই সাথে ঘূর্ণিঝড়ে প্রাণ হারানো হীরামণি সাঁওতালের বাড়ীও ছুটে যান মুখ্যমন্ত্রী। ঘোষনা দিলেন আগামী ৩ দিনের মধ্যে ক্ষতিগ্রস্থ প্রতিটি পরিবারকে আর্থিক সাহায্য করা হবে। অপরদিকে মৃতার পরিবারকে মুখ্যমন্ত্রী ত্রান তহবিল থেকে আগামীকালই আর্থিক সাহায্য দেওয়া হবে। এরপর বেলছড়া স্কুলে ত্রান শিবিরে গিয়ে আশ্রিতদের সাথে সাক্ষাৎ করেন মুখ্যমন্ত্রী।
FacebookTwitterGoogle+Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*