সুব্রত দাস, গন্ডাছড়া, ১৬ জুলাই || স্মার্ট মিটার ও অনৈতিক বিদ্যুৎ বিলের বিরুদ্ধে গোটা রাজ্যের সাথে সাথে উত্তাল হয়ে উঠেছে ধলাই জেলার গন্ডাছড়া মহকুমাও। বুধবার বিদ্যুৎ দপ্তরের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নেয় রাইমাভ্যালি কংগ্রেস দল। মহকুমা বিদ্যুৎ অফিস ঘেরাও, বিক্ষোভ মিছিল এবং গণ-অবস্থানের মধ্য দিয়ে আন্দোলনকারীরা জানিয়ে দেন, আর নয় অতিরিক্ত বিলের বোঝা।
বেলা একটার সময় রাইমাভ্যালি বিধানসভা কেন্দ্রের কংগ্রেস নেতৃত্ব ও কর্মীরা মহকুমা সদরের দলীয় কার্যালয় থেকে বিশাল মিছিল বের করে শহরের প্রধান সড়ক পরিক্রমা করে। পরে তারা মহকুমা বিদ্যুৎ অফিসে পৌঁছে তীব্র বিক্ষোভ প্রদর্শন শুরু করেন। কংগ্রেস কর্মীরা বিদ্যুৎ অফিসের প্রতিটি দরজা বন্ধ করে দিলে ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে কয়েকজন কর্মরত কর্মকর্তা অফিসের পেছনের দরজা দিয়ে পালিয়ে আত্মরক্ষা করেন বলে অভিযোগ।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বেশ কিছুক্ষণের জন্য বিদ্যুৎ অফিসের কার্যক্রম সম্পূর্ণভাবে স্তব্ধ হয়ে যায়। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠায় পরে গন্ডাছড়া থানার পুলিশ ও সাপিএফ জওয়ানরা ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
প্রায় একঘণ্টাব্যাপী অবস্থান চলার পর আন্দোলনকারীরা এক জনৈক ইঞ্জিনিয়ারের মাধ্যমে নিজেদের দাবিপত্র বিদ্যুৎ বিভাগে জমা দিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে এলাকা ত্যাগ করেন।
বিক্ষোভ শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ব্লক যুব কংগ্রেস সভাপতি বাদল সরকার বলেন, “আমরা বারবার বিদ্যুৎ দপ্তরকে স্মার্ট মিটার নিয়ে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগের কথা জানিয়েও কোনো ফল পাইনি। তাই বাধ্য হয়েই রাজপথে নামতে হয়েছে। এই আন্দোলন চলবে যতদিন না সরকার এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করে।”
বুধবারের এই বিক্ষোভ-অবস্থানে নেতৃত্ব দেন ব্লক কংগ্রেস সভাপতি রঞ্জিত ত্রিপুরা, যুব কংগ্রেস সভাপতি বাদল সরকার, কংগ্রেস নেতা হরিজয় ত্রিপুরা এবং মহিলা নেত্রী বিন্দু ত্রিপুরা।
রাজ্যজুড়ে স্মার্ট মিটার বিরোধী এই আন্দোলনে গন্ডাছড়া মহকুমার বুধবারের দৃশ্য যেন এক প্রতিচ্ছবি হয়ে থাকলো বিদ্যুৎ বঞ্চিত সাধারণ মানুষের ক্ষোভের।
