আপডেট প্রতিনিধি, আগরতলা, ০৯ মার্চ || আন্তর্জাতিক নারী দিবস ২০২৬ উপলক্ষে যুব বিকাশ কেন্দ্র (YVK) ও বিশ্ব যুবক কেন্দ্র, নয়াদিল্লির যৌথ উদ্যোগে শনিবার আগরতলার দশরথ দেব মেমোরিয়াল অডিটোরিয়ামে এক সচেতনতামূলক কমিউনিটি প্রোগ্রাম ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানের মূল উদ্দেশ্য ছিল সমাজে নারীদের সাফল্যকে উদযাপন করা এবং লিঙ্গসমতা, নেতৃত্বের বিকাশ ও নারীদের জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক সুযোগ সৃষ্টির বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি করা।
অনুষ্ঠানের সূচনা হয় যুব বিকাশ কেন্দ্রের সহ-সভাপতি পাঞ্চালি দেববর্মার স্বাগত ভাষণের মাধ্যমে। তিনি উপস্থিত প্রধান অতিথি, সম্মানিত অতিথি, বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ ও প্রতিনিধিদের স্বাগত জানিয়ে বলেন, আন্তর্জাতিক নারী দিবস এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ যেখানে সমাজের প্রতিটি ক্ষেত্রে নারীদের অবদানকে যথাযথ স্বীকৃতি দেওয়া হয়। তিনি আরও জানান, যুব বিকাশ কেন্দ্র তৃণমূল স্তরে নারীর ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে বিভিন্ন জীবিকাভিত্তিক উদ্যোগ, সচেতনতামূলক কর্মসূচি এবং যুবসমাজকে সম্পৃক্ত করে ত্রিপুরার বিভিন্ন এলাকায় কাজ করে চলেছে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ত্রিপুরা মহিলা কমিশনের চেয়ারপার্সন ঝর্ণা দেববর্মা। তিনি তাঁর বক্তব্যে নারীর অধিকার, মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, শিক্ষা, সচেতনতা এবং অর্থনৈতিক সুযোগের মাধ্যমে নারীদের ক্ষমতায়ন একটি সমতাভিত্তিক ও প্রগতিশীল সমাজ গঠনের অন্যতম প্রধান শর্ত। পাশাপাশি তিনি লিঙ্গবৈষম্য ও নারীর প্রতি সহিংসতার মতো সমস্যার মোকাবিলায় সমাজের সম্মিলিত উদ্যোগের ওপর জোর দেন। যুব বিকাশ কেন্দ্র ও বিশ্ব যুবক কেন্দ্রের এই উদ্যোগের প্রশংসা করে তিনি তরুণ প্রজন্মকে লিঙ্গসমতা প্রতিষ্ঠার দূত হিসেবে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ন্যাশনাল ব্যাংক ফর এগ্রিকালচার অ্যান্ড রুরাল ডেভেলপমেন্ট (NABARD)-এর ত্রিপুরা আঞ্চলিক দপ্তরের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার দিগন্ত কুমার দাস। তিনি তাঁর বক্তব্যে গ্রামীণ নারীদের অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতা বৃদ্ধির জন্য আর্থিক অন্তর্ভুক্তি, দক্ষতা উন্নয়ন এবং জীবিকা উন্নয়নমূলক উদ্যোগের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, NABARD-এর বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে নারীদের স্বনির্ভর গোষ্ঠী গঠন, গ্রামীণ উদ্যোগ এবং সম্প্রদায়ভিত্তিক কার্যক্রমকে উৎসাহ ও সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে।
এদিন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন যুব বিকাশ কেন্দ্রের সচিব প্রতিমা দেববর্মা, যুগ্ম সচিব সুমিতা দেবনাথ এবং বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক কর্মী নন্দিতা ভট্টাচার্য। এছাড়াও বিভিন্ন সমাজকর্মী, যুব প্রতিনিধি ও স্থানীয় মানুষের উপস্থিতি অনুষ্ঠানে বিশেষ মাত্রা যোগ করে।
সচেতনতামূলক আলোচনা পর্বের পাশাপাশি স্থানীয় শিল্পী ও যুব সংগঠনের পরিবেশনায় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। সঙ্গীত, নৃত্য ও সৃজনশীল উপস্থাপনার মাধ্যমে নারীর শক্তি, সংগ্রাম ও সৃষ্টিশীলতার বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়, যা উপস্থিত দর্শকদের অনুপ্রাণিত করে।
অনুষ্ঠানের শেষে যুব বিকাশ কেন্দ্রের সংগঠক সম্পাদক পিংকু দাস ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। তিনি প্রধান অতিথি, সম্মানিত অতিথি, সাংস্কৃতিক শিল্পী, স্বেচ্ছাসেবক ও অংশগ্রহণকারীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
এই উদ্যোগের মাধ্যমে যুব বিকাশ কেন্দ্র ও বিশ্ব যুবক কেন্দ্র আবারও লিঙ্গসমতা প্রতিষ্ঠা, সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং যুবসমাজকে সম্পৃক্ত করে নারীর ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে কাজ করে যাওয়ার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে।
