আপডেট প্রতিনিধি, আগরতলা, ০১ জুলাই || জিবি হাসপাতালের বহির্বিভাগে (ওপিডি) অস্বাভাবিক রোগীর ভিড়, গর্ভবতী মহিলা-সহ সাধারণ রোগীদের চরম দুর্ভোগ এবং অপর্যাপ্ত পরিকাঠামোর চিত্র নিয়ে গতকাল বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়ার পর দ্রুত নড়েচড়ে বসেছে রাজ্য প্রশাসন। সংবাদের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই হাসপাতাল চত্বরে শুরু হয়েছে একাধিক উন্নয়নমূলক কাজ।
মঙ্গলবার রাত থেকেই জিবি হাসপাতালে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় অতিরিক্ত সিলিং ও ওয়াল ফ্যান বসানোর কাজ শুরু হয়েছে। পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে ক্ষতিগ্রস্ত অবস্থায় থাকা সিঁড়ির রেলিং মেরামতের কাজও চলছে। হাসপাতালের বিভিন্ন অংশে রোগী ও তাঁদের পরিজনদের জন্য আরও স্বাচ্ছন্দ্যময় পরিবেশ গড়ে তুলতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে একাধিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, মঙ্গলবার প্রকাশিত প্রতিবেদনে চিকিৎসকদের প্রাইভেট চেম্বার বন্ধ থাকায় জিবি হাসপাতালের ওপিডিতে রোগীর চাপ বহুগুণ বেড়ে যাওয়ার বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছিল। বিশেষ করে গাইনোকোলজি বিভাগে দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে চিকিৎসার অপেক্ষায় থাকা গর্ভবতী মহিলাদের দুর্ভোগ, বসার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকা, গরমে অসুস্থ রোগীদের ভোগান্তি এবং হাসপাতালের সীমিত পরিকাঠামোর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশ্যে আসে।
এর পরেই প্রশাসনের এই দ্রুত পদক্ষেপকে ইতিবাচক হিসেবেই দেখছেন অনেক রোগী ও তাঁদের পরিবারের সদস্যরা। তাঁদের আশা, শুধু ফ্যান বা রেলিং মেরামত নয়, ভবিষ্যতে অতিরিক্ত চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী, রেজিস্ট্রেশন কাউন্টার এবং রোগীদের বসার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা করা হলে চিকিৎসা পরিষেবা আরও উন্নত হবে।
রাজ্যের সাধারণ মানুষের চিকিৎসা পরিষেবাকে আরও সহজলভ্য, নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় করে তুলতে সরকার যে দ্রুততার সঙ্গে উদ্যোগ নিয়েছে, তা হাসপাতাল চত্বরে চলমান কাজেই প্রতিফলিত হচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহলের একাংশ। তবে রোগীদের বক্তব্য, এই উন্নয়নমূলক কাজের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে হাসপাতালের সামগ্রিক পরিকাঠামো ও পরিষেবার মান আরও উন্নত করা হলে সাধারণ মানুষ দীর্ঘমেয়াদে তার সুফল পাবেন।
