স্মৃতির আঙিনায় ৫০ বসন্ত: খোয়াই সরকারি দ্বাদশ শ্রেণী বিদ্যালয়ে প্রথম ব্যাচের ব্যতিক্রমী পুনর্মিলন, ৯৩ বছরের শিক্ষাগুরু ও প্রবীণ সাংবাদিকে সংবর্ধনা

গোপল সিং, খোয়াই, ০১ জুলাই || জীবনের শেষ প্রান্তে এসে আরও একবার ফিরে পাওয়া সেই হারিয়ে যাওয়া সোনালী দিনগুলো, সেই চেনা ক্লাসরুম আর প্রিয় বন্ধুদের কোলাহল। খোয়াই সরকারি দ্বাদশ শ্রেণী বিদ্যালয়ের ৫০ বছর পূর্তি বা সুবর্ণ জয়ন্তী উপলক্ষ্যে আজ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হলো এক নজিরবিহীন ও আবেগঘন পুনর্মিলন উৎসব। এই ঐতিহাসিক মাহেন্দ্রক্ষণে ১৯৭৬-৭৮ সালের প্রথম উচ্চমাধ্যমিক উত্তীর্ণ ব্যাচের ছাত্র-ছাত্রীদের উদ্যোগে এবং বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সহযোগিতায় এক বর্ণাঢ্য সংবর্ধনা প্রদান করা হয়। আজ বয়সের ভারে সবার শরীর নুয়ে পড়লেও, বিদ্যালয়ের এমন ব্যতিক্রমী ও মানবিক চিন্তাধারার খবর পেয়ে জীবিত প্রাক্তনীরা দূর-দূরান্ত থেকে ছুটে এসেছিলেন নিজের চেনা বিদ্যাপীঠে। বিদ্যালয়ের খুদে ছাত্র-ছাত্রীদের সামনে এই গোটা অনুষ্ঠানের আয়োজন প্রশংসা কুড়িয়েছে উপস্থিত সকলেরই। আজ সমগ্র খোয়াইবাসীর ভূয়সী প্রশংসা করেছেন গোটা অনুষ্ঠানের।
উল্লেখ্য, ১৯৭৬ সালে এই সরকারি দ্বাদশ শ্রেণী বিদ্যালয়টি পথ চলা শুরু করেছিল। সেই শুরুর দিনগুলিতে বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষকের গুরুদায়িত্ব সামলেছিলেন সীতেশ রঞ্জন ভট্টাচার্য্য। বর্তমানে তাঁর বয়স ৯৩ বছর। আজকের এই বিশেষ দিনটিতে আমন্ত্রিত হয়ে বার্ধক্যজনিত সমস্ত শারীরিক প্রতিকূলতাকে উপেক্ষা করে তিনি আগরতলা থেকে খোয়াইতে ছুটে আসেন এবং প্রধান অতিথি হিসেবে মঞ্চ আলোকিত করেন। জীবনের এই অপরাহ্নে এসে নিজের হাতে গড়া বিদ্যালয়ের এমন ৫০ বছর পূর্তি এবং প্রিয় প্রাক্তন ছাত্রদের পুনর্মিলন দেখে তিনি অত্যন্ত আবেগপ্লুত হয়ে পড়েন।
মঞ্চে প্রবীণ এই শিক্ষাগুরুর পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন ওই বিদ্যালয়েরই প্রাক্তন শিক্ষক কমলারঞ্জন ভট্টাচার্য্য, প্রাক্তন গ্রন্থাগারিক চন্দ্রশেখর দত্ত, বিদ্যালয়ের বর্তমান সফল অধ্যক্ষ মনোজ দেববর্মা সহ বর্তমান সময়ের একঝাঁক শিক্ষক-শিক্ষিকাবৃন্দ। একই সাথে এই গৌরবময় অনুষ্ঠানে খোয়াইয়ের প্রবীণ কর্মরত সাংবাদিক গোপাল সিংকেও সমাজ ও সংবাদক্ষেত্রে তাঁর অবদানের জন্য বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে বিশেষভাবে সংবর্ধিত করা হয়।
১৯৭৬-৭৮ সালের প্রথম উচ্চমাধ্যমিক ব্যাচের যে সমস্ত ছাত্র-ছাত্রীরা আজ এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছেন, তাঁরা প্রায় প্রত্যেকেই আজ নিজ নিজ কর্মজীবন থেকে অবসর নিয়েছেন। কিন্তু সুবর্ণ জয়ন্তীর এই পুনর্মিলন উৎসব তাঁদেরকে সেই দূরন্ত কৈশোর ও মধুর ছাত্রাবস্থার দিনগুলিতে ফিরিয়ে নিয়ে গিয়েছিল। প্রাক্তনীরা একে অপরকে জড়িয়ে ধরে ভাগ করে নেন পুরোনো দিনের স্মৃতি। উপস্থিত বরিষ্ঠ শিক্ষক ও ছাত্ররা তাঁদের বক্তব্যে জানান, ছাত্রাবস্থার দিনগুলি সর্বদাই প্রতিটি ব্যক্তির জীবনে সবচেয়ে মধুর স্মৃতি হিসেবে আগলে থাকে। বয়সের সমস্ত গণ্ডি পেরিয়ে আজকের এই সুবর্ণ মুহূর্ত সৃষ্টি করার জন্য পুরো কৃতিত্বই ১৯৭৬-৭৮ সালের প্রাক্তনীদেরই। এই ধরণের ইতিবাচক ও দূরদর্শী উদ্যোগ আগামী দিনে খোয়াইয়ের গণ্ডি পেরিয়ে সমগ্র রাজ্য স্তরে ব্যাপকভাবে সমাদৃত হবে এবং নবীন প্রজন্মও এই ঐতিহ্যবাহী ধারা অব্যাহত রাখবে বলে আশা ব্যক্ত করেন তাঁরা।

FacebookTwitterGoogle+Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*