গোপাল সিং, খোয়াই, ২৮ জানুয়ারী ৷৷ সাবধান ! নীরবে বই নকল চলছে ! সমাজে বই চুরির ঘটনা বিশেষ করে বইমেলায় প্রায়শ:ই শোনা যায়। সেক্ষেত্রে একে বিশেষ ঘৃনার চোখে দেখা হয় না। কারন চুরের জ্ঞান বৃদ্ধি ঘটবে এটা ভেবে অনেকেই মনে মনে আনন্দিত হয়। বই চোরেরা অধিকাংশ ক্ষেত্রেই উচ্চশিক্ষত এবং আর্থিকভাবে সমৃদ্ধ ও বটে। কিন্তু বই নকলকারীরা মেধা এবং মানসিকতা উভয় দিক দিয়েই হীনমন্য প্রকৃতির হয়। তাই চুপিসারে নকল করে। অনেকটা কাকের সাবান রাখার মতো। কিন্তু তারা ভুলে যায় বিষয়টি কারোর না কারোর নজরে পড়বেই। তারপরও এমনটা হামেশাই হয়ে থাকে। লেখকের অজান্তেই তাঁর লেখা, মূল্যবান সৃষ্টিকে হাতিয়ে নেয় কতজন। তাদের কোন নাম নেই। কপিরাইট আইনের তারা ধার ধারেন না। এমনই প্রতারকের প্রতারনার স্বীকার খোয়াইয়ের শ্রীনাথ বিদ্যানিকেতন স্কুলের শিক্ষক মোহনলাল বণিক জানালেন, ২০০৪ সালে কলকাতা বইমেলায় প্রকাশিত মহাবিদ্যালয় ও বিশ্ববিদ্যালয় স্তরের জন্য লিখিত শিক্ষাবিদ মোহনলাল বণিক ও ড. সন্তোষ কুমার ঘোড়ই-এর ‘পরিবেশবিদ্যা’ বইটি থেকে কোনপ্রকার কৃতজ্ঞতা প্রকাশ ছাড়াই অনেক লেখা কপি করা হয়েছে এমন একটি বইতে, যে বইটি টিবিএসই বোর্ড পরিচালিত দশম শ্রেনীর নতুন সিলেবাসের অন্তর্গত। টিবিএসই অনুমোদিত বইটির অনুমোদন নং-TB NO. TRIPURA/ SCI/37/2016/PROVI, যার প্রকাশকাল ১০/১১/২০১৬। ‘জীবন বিজ্ঞান-অন্বেষা’ নামাঙ্কিত বইটি সত্যপ্রিয় রায় ও নন্দন চক্রবর্তী’র লেখা। আর এই বইটিতে অনেক লেখা হুবহু কপি করা হয়েছে ‘পরিবেশবিদ্যা’ বইটি থেকে, এমনটাই অভিযোগ জানালেন শিক্ষক মোহনলাল বণিক।
এখন স্বভাবতই প্রশ্ন উঠবে কপিরাইট কি? সে বিষয়েও একটু আলোচনা করা প্রয়োজন। কপিরাইট মূলত দুটি শব্দের সম্মিলন। কপি এবং রাইট। কপি অর্থ নকল বা প্রতিলিপি বা অনুলিপি বা অনুকৃতি বা অনুকরণ বা অনুসৃতি ইত্যাদি। আর রাইট হচ্ছে অধিকার বা স্বত্ব বা সত্য বা ন্যায় ইত্যাদি। সহজ ভাষায় বলা যায়, কপিরাইট হচ্ছে নকল করার অধিকার বা নকলাধিকার। যিনি নতুন কিছু সৃষ্টি করেন, তিনি তাঁর সেই সৃষ্টি অন্যকে জানাতে চান বা অন্যকে ব্যবহার করতে দিতে চান। তখন সেই সৃষ্টিকর্মের আরো অনুলিপি বা নকল বা কপি প্রয়োজন হয়। এই ধরনের কপি বা অনুলিপি বা নকল করার অধিকার রাখেন কেবল সেই সৃষ্টিকর্মের স্রষ্টা। কিন্তু এক্ষেত্রে দেখা গেল শিক্ষাবিদ মোহনলাল বণিক ও ড. সন্তোষ কুমার ঘোড়ই-এর ‘পরিবেশবিদ্যা’ বইটি থেকে কোনপ্রকার কৃতজ্ঞতা প্রকাশ ছাড়াই অনেক লেখা কপি করা হলেও একটি স্বনামধন্য প্রকাশক সংস্থার আড়ালে সত্যপ্রিয় রায় এবং নন্দন চক্রবর্তী সেই কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেননি। শিক্ষক মোহনলাল বণিক জানালেন কপিরাইট আইন অনুযায়ী কোন লেখকের লেখনী থেকে একসাথে তিন লাইনের অধিক নকল করা যায় না, প্রকৃত লেখকের অনুমতি ছাড়া বা লেখকে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ ছাড়া। কিন্তু কোন আইনই যে মানতে নারাজ ঐ দুই লেখক। তাতেই বেজায় চটলেন শিক্ষক মোহনলাল বণিক। বিভিন্ন সময় শিক্ষক মোহনলাল বণিকের প্রকাশিত বই থেকে নকল করা হয়েছে। কিন্তু সাথে কৃতজ্ঞতাও প্রকাশ করা হয়েছে। তবে চিরাচরিত প্রথা মেনে বই নকল করার অপচেষ্টায় মগ্ন লেখকরা কিন্তু কখনই কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন না। এক্ষেত্রে ঠিক তাই। এজন্য শিক্ষক মোহনলাল বণিক গোটা ঘটনার তীব্র নিন্দা প্রকাশ করে সেই সব লেখকদের প্রতি কড়া বার্তা দিলেন এবং বললেন, তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনে কঠোর ব্যবস্থাও গ্রহন করা হতে পারে। যৌথ লেখকের লেখা ‘পরিবেশবিদ্যা’ বইটি অনেকের কাছেই রয়েছে। শেষে প্রবীন শিক্ষক তথা লেখক মোহনলাল বণিক বলেন, এটা ব্যাক্ষার অযোগ্য অপরাধ। ইতিপূর্বে কলকাতা থেকে প্রকাশিত একাধিক রেফারেন্স বই অনুরূপ কাজ করেছেন। তবে ওরা শেষে দিকে কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করা হয়েছে। তবে আইনের দিকে উভয়ই সমভাবে অপরাধ। এবিষয়ে কলকাতার ঐ প্রকাশনা সংস্থার সাথে কথা বলার ইচ্ছেও রয়েছে বলে জানান তিনি। তিনি বলেন দু’চার লাইন মিলে যেতে পারে কিন্তু এটাতো আসলে পুকুর চুরি ! তবে অচিরেই এধরনের অপরাধ বন্ধ করার দাবি জানিয়েছেন লেখক।
