আরো শক্তিশালী হয়ে ঘণ্টায় আড়াইশ’ কিলোমিটার বেগে ফিলিপিন্সের দিকে ধেয়ে আসছে সুপার টাইফুন ‘হ্যাগুপিট’। টাইফুনের প্রভাবে ইতিমধ্যে সেখানে ভারি বৃষ্টি ও ঝড়ো হাওয়া বইতে শুরু করেছে।
স্থানীয় সময় শনিবার বিকেল ৪টা নাগাদ এটি দেশটির সামার প্রদেশ ও তাক্লুবান শহরে আঘাত হানতে পারে বলে আশঙ্কা করছে সেখানকার আবহাওয়া দপ্তর।
স্থানীয়ভাবে এই টাইফুনের নাম দেয়া হয়েছে ‘রুবি’। বর্তমানে এটি সামার প্রদেশের ৫শ’ কিলোমিটার পূর্বে অবস্থান করছে। ঘূর্ণিঝড় এলাকায় বাতাসের গতিবেগ এখন ঘণ্টায় আড়াইশ’ কিলোমিটার।
টাইফুন হাগুপিটের আঘাতে প্রাণহানি ঠেকাতে ইতিমধ্যে দেশটির উত্তরাঞ্চল থেকে প্রায় ৬ লাখ মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এক বছর আগে ফিলিপাইনের উত্তরাঞ্চলেই সুপার টাইফুন হাইয়ানের আঘাতে কয়েক হাজার মানুষের প্রাণহানি হয়।
শনিবার বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, টাইফুন হাগুপিট শুক্রবার রাতে কিছুটা দুর্বল হয়ে পড়েছে। তবে তা সত্ত্বেও ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রে বাতাসের সর্বোচ্চ গতিবেগ রয়েছে ঘণ্টায় ১৯৫ কিলোমিটার।
শক্তিশালী এই টাইফুন শনিবার সন্ধ্যা থেকে রোববার শেষ রাতের মধ্যে ফিলিপাইনের উত্তরাঞ্চলীয় উপকূলে আঘাত হানতে পারে। টাইফুনটি আঘাত হানার পর ফিলিপাইনের উত্তরাঞ্চলের উপকূলীয় এলাকায় প্রচণ্ড ঝড়ো বাতাস, জলোচ্ছ্বাস ও ভূমিধসের আশঙ্কা করা হচ্ছে।
টাইফুনের কারণে সেবু প্যাসিফিক ও ফিলিপাইন এয়ারলাইন্স শুক্র ও শনিবার মিলিয়ে তাদের ১৫০টি ফ্লাইট বাতিল করেছে। এতে বিপাকে পড়েছেন এই দুই বিমান সংস্থার হাজার হাজার যাত্রী। এছাড়া টাইফুনের কারণে শুক্র ও শনিবার সমুদ্রভ্রমণও বাতিল করা হয়েছে।
উদ্ভূত পরিস্থিততে ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট বেনিগনো অ্যাকুইনো শুক্রবার বিকেলে দেশটির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিষয়ক দফতরের প্রধানের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। তিনি টাইফুন আঘাত হানার পর ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে পর্যাপ্ত খাদ্য ও পানীয় সরবরাহের নির্দেশ দিয়েছেন।
এছাড়া টাইফুন আঘাত হানার পরবর্তী সময়ে ওইসব এলাকায় লুটপাট ঠেকাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে প্রস্তুত থাকারও নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। তবে টাইফুন হাগুপিট এক বছর আগে আঘাত হানা টাইফুন হাইয়ানের মতোই শক্তিশালী- এখন পর্যন্ত এমন কোনো ‘আভাস’ পাওয়া যায়নি বলে প্রেসিডেন্ট অ্যাকুইনোর বরাত দিয়ে স্থানীয় সংবাদ মাধ্যম জানিয়েছে।
টাইফুন হাগুপিট সম্পর্কে ফিলিপাইনের সমাজ কল্যাণ সচিব কোরাজোন সোলিমান এএফপিকে বলেন, “হাগুপিটের ব্যাস হচ্ছে ৬০০ কিলোমিটার বা ৩৭০ মাইল। এর অর্থ হচ্ছে ফিলিপাইনের প্রায় ৫ কোটি মানুষ এই ঘূর্ণিঝড়ের আওতায় রয়েছে, যা দেশটির মোট জনসংখ্যার অর্ধেক। আরো সহজভাবে বললে- ফিলিপাইনের অর্ধেক মানুষ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাস করছে।”
উল্লেখ্য, গত বছরের নভেম্বরে ফিলিপাইনে আঘাত হানে সুপার টাইফুন হাইয়ান, যা এ যাবতকালের সবচেয়ে শক্তিশালী টাইফুন। হাইয়ানের আঘাতে সে সময় সাত হাজারেরও বেশি মানুষ মারা যায় বা নিখোঁজ হয়।
