স্বদলীয় সুপ্রিমোকে চ্যালেঞ্জের ইঙ্গিত? আশারামবাড়ীতে অনিমেষ দেববর্মার বাইক র‍্যালি

গোপাল সিং, খোয়াই, ১৪ মার্চ || এ কিসের ইঙ্গিত? শাসক বনাম শরিক লড়াইয়ের মাঝে শরিক দল তিপ্রা মথা পার্টির অন্তর দ্বন্দ কি প্রকাশ্যে চলে আসছে? টিটিএএডিসি নির্বাচনের প্রাকলগ্নে দলীয় কোন্দল সামলাতেই পার্টি সুপ্রিমোকে হিমশিম খেতে হচ্ছে বলেই অভিমত জনগণের।
শনিবার একটি সরকারী অনুষ্ঠানে বনমন্ত্রী অনিমেষ দেববর্মাকে খোয়াই থেকে আশারামবাড়ী বিধানসভা কেন্দ্রের পূর্ব তকছায়া এলাকা পর্যন্ত বাইক র‍্যালী করে নিয়ে যাওয়া হলো। সাধারন একটি কমিউনিটি হল উদ্বোধনের জন্য এমন আয়োজন, এর আগে কখনো দেখা যায়নি বলেই অভিমত জনগণের। আজ আশারামবাড়ীতে বিইউপি তহবিলের অর্থে নির্মিত কমিউনিটি হলের উদ্বোধন করেন বনমন্ত্রী। কিন্তু সরকারী অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে বাইক রেলি হলো বনমন্ত্রী অনিমেষ দেববর্মার খাস তালুকে আশারামবাড়ীতেই। জনগণের প্রশ্ন, তাহলে কি তিপ্রামথা পার্টির সুপ্রিমোকে কৌশলী বার্তা দিলেন স্বদলীয় বিধায়ক? এই বাইক রেলি সংগঠিত করে কি নিজের শক্তি প্রদর্শন করলেন তিনি? গোটা ঘটনায় জনমনে কৌতূহল বিরাজ করছে।
বিশেষ করে ত্রিপুরার রাজনীতিতে নতুন করে উত্তাপ ছড়িয়েছে তিপ্রামথা শিবিরের অভ্যন্তরীণ টানাপোড়েনকে ঘিরে। একদিকে তিপ্রামথা সুপ্রিমো প্রদ্যুত কিশোর দেববর্মা, অন্যদিকে দলেরই বিধায়ক ও রাজ্যের বনমন্ত্রী অনিমেষ দেববর্মা—দু’জনের মধ্যে চলা ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য এখন যেন প্রকাশ্যে রাজনৈতিক শক্তি প্রদর্শনের রূপ নিতে শুরু করেছে।
সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যমে বনমন্ত্রী অনিমেষ দেববর্মার একটি অডিও ভাইরাল হওয়ার পর থেকেই এই বিরোধ নতুন মাত্রা পায়। সেই অডিও ঘিরে নানা মন্তব্য ও পাল্টা মন্তব্যের জেরে রাজ্য রাজনীতি যখন সরগরম, ঠিক সেই সময়েই নিজের বিধানসভা কেন্দ্র আশারামবাড়ীতে বাইক র‍্যালি করে সরকারী অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে কি নিজের শক্তি প্রদর্শন করলেন বনমন্ত্রী অনিমেষ দেববর্মা? আপাতত জনগণ কিন্তু এভাবেই গোটা ঘটনাকে ব্যাক্ষা করছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বাইক নিয়ে আয়োজিত এই র‍্যালি ঘিরে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, এই বাইক র‍্যালি শুধুমাত্র একটি সাধারণ কর্মসূচির অঙ্গ নয়, বরং এটি একটি সুস্পষ্ট রাজনৈতিক বার্তা।
উল্লেখ্য, এর আগেই সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া বক্তব্যে অনিমেষ দেববর্মাকে বলতে শোনা যায়—“মহারাজাকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে হবে।” তাঁর দাবি, প্রদ্যুত কিশোর দেববর্মা নাকি বলেছেন— “হামকো কোই নেতা নেহি চাহিয়ে।” এর পাল্টা জবাবে অনিমেষ দেববর্মার বক্তব্য, মহারাজাকে প্রকাশ্যে বলতে হবে— “হামকো সব নেতা চাহিয়ে।”
এই প্রেক্ষাপটে নিজের শক্ত ঘাঁটি আশারামবাড়ীতে বাইক র‍্যালি করে সরকারী অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে নিজের শক্তি প্রদর্শনকে জনগণ কিন্তু তিপ্রামথা সুপ্রিমোর উদ্দেশ্যে সরাসরি রাজনৈতিক বার্তা হিসেবেই দেখছেন। ফলে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে এখন একটাই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে—এ কি শুধুই শক্তি প্রদর্শন, নাকি তিপ্রা মথার অন্দরমহলের দ্বন্দ্ব আরও বড় আকার নিতে চলেছে?

FacebookTwitterGoogle+Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*