আপডেট প্রতিনিধি, আগরতলা, ১৪ মার্চ || রাজ্যের কৃষি ও কৃষক কল্যাণ দপ্তরের বিভিন্ন কার্যক্রম নিয়ে গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ, দপ্তরের এক প্রভাবশালী যুগ্ম অধিকর্তাকে কেন্দ্র করে ব্যবসায়ী ও কিছু ব্যক্তির একটি চক্র গড়ে উঠেছে, যার ফলে কৃষি উপকরণ বিতরণ এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
রাজ্য সরকার কৃষকদের আয় বৃদ্ধি এবং কৃষি উৎপাদন বাড়ানোর লক্ষ্যে একাধিক প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। কৃষি ও কৃষক কল্যাণ দপ্তরের মন্ত্রীও রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে সফর করে কৃষকদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে উন্নয়নের বার্তা পৌঁছে দিচ্ছেন। তবে দপ্তরের ভেতরে কিছু প্রশাসনিক পদক্ষেপ ও সিদ্ধান্ত নিয়ে অসন্তোষ বাড়ছে বলে সূত্রের খবর।
দপ্তরের একাধিক কর্মকর্তার অভিযোগ, কৃষি উপকরণ যেমন বীজ, সার ও যন্ত্রপাতি বিতরণের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কিছু ব্যবসায়ীকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। এমনকি কেন্দ্রীয় প্রকল্পের গাইডলাইন বাস্তবায়নের ক্ষেত্রেও কিছু ক্ষেত্রে পরিবর্তন বা ব্যাখ্যার মাধ্যমে নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর সুবিধা নিশ্চিত করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগ আরও রয়েছে, জেলা ও মহকুমা স্তরের কৃষি আধিকারিকদের ফোনের মাধ্যমে নির্দেশ দেওয়া হয় কোন ব্যবসায়ীর কাছ থেকে কত পরিমাণ উপকরণ নেওয়া হবে। ফলে কৃষকদের নিজেদের পছন্দমতো ব্র্যান্ড বা মানের উপকরণ বেছে নেওয়ার সুযোগ সীমিত হয়ে পড়ছে বলে দাবি করা হচ্ছে। এতে নিম্নমানের কৃষি উপকরণ কৃষকদের উপর চাপিয়ে দেওয়ার আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে।
পোস্টিং নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। দপ্তরের প্রায় ৪০ জন কৃষি উপ-অধিকর্তা নিজেদের পদ অনুযায়ী দায়িত্ব না পেলেও পশ্চিম ত্রিপুরা জেলায় উদ্যান উপ-অধিকর্তার পদে এক সহ অধিকর্তা দীর্ঘদিন ধরে দায়িত্ব পালন করছেন বলে অভিযোগ। এই বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ফাইল উচ্চস্তরে পৌঁছাচ্ছে না বলেও দপ্তরের অভ্যন্তরীণ সূত্রে দাবি করা হয়েছে।
দপ্তরের একাংশের কর্মকর্তাদের মতে, প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও নিয়ম অনুযায়ী সিদ্ধান্ত গ্রহণ না হলে কৃষি ব্যবস্থার উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হতে পারে এবং শেষ পর্যন্ত ক্ষতির মুখে পড়বেন কৃষকরাই।
এই পরিস্থিতিতে দপ্তরের একাধিক বঞ্চিত ও অসন্তুষ্ট কর্মকর্তা বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করার জন্য সরকারের কাছে আবেদন জানিয়েছেন। তাদের দাবি, অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হলে দপ্তরের কাজের স্বচ্ছতা বাড়বে এবং কৃষি উন্নয়নের লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়ন সহজ হবে।
এ বিষয়ে কৃষি দপ্তরের তরফে এখনও আনুষ্ঠানিক কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে।
