নাকা চেকিংয়ে প্রায় ৬০০০ ইয়াবা ট্যাবলেট সহ গ্রেপ্তার সোনাতলার এক পাচারকারী, ধৃতের পরিচয় সংবাদ মাধ্যমে জানায়নি পুলিশ

গোপাল সিং, খোয়াই, ১৯ মে || একের পর এক নেশার সামগ্রী উদ্ধারের ঘটনায় ফের তোলপাড় খোয়াই জেলা। মাদক কারবারিদের নিত্যনতুন ছক বানচাল করতে জেলা পুলিশের দৌড়ঝাঁপ জারি থাকলেও, বর্তমান পরিস্থিতি দেখে ওয়াকিবহাল মহলের একাংশের ধারণা—খোয়াইকে ফের একবার নেশার করিডোর বা সাম্রাজ্য হিসেবে গড়ে তুলতে মরিয়া হয়ে উঠেছে পাচারকারীরা। সোমবার সন্ধ্যায় বাইজলবাড়ি থানার পুলিশ বেলফাং নাকা পয়েন্টে এক গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে প্রায় ৬ হাজার নিষিদ্ধ ইয়াবা ট্যাবলেট সহ এক মাদক পাচারকারীকে হাতেনাতে গ্রেফতার করেছে। উদ্ধার হওয়া এই বিপুল পরিমাণ মাদকের ওজন প্রায় ৫৯৮ গ্রাম। তবে ধৃতের পরিচয় প্রকাশ্যে আনেনি পুলিশ। উদ্ধার হওয়া স্কুটির নম্বর হলো TR06-D8241 বলে জানা যায়।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আজ ১৮ মে সোমবার বিকেল ৬টা থেকে বাইজলবাড়ি থানার সাব-ইন্সপেক্টর তিলক জমাতিয়ার নেতৃত্বে থানার পুলিশ কর্মীরা খোয়াই-আগরতলা সড়কের বেলফাং নাকা পয়েন্টে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে গাড়ি চেকিং শুরু করেন। অভিযান চলাকালীন এক সুনির্দিষ্ট গোপন তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ একটি সন্দেহভাজন একটি স্কুটিকে আটক করে।
এরপর সমস্ত আইনি নিয়মকানুন ও প্রোটোকল মেনে স্কুটি এবং চালকের ওপর পুঙ্খানুপুঙ্খ তল্লাশি চালানো হয়। এই তল্লাশিতেই ওই ব্যক্তির হেফাজত থেকে প্রায় ৫৯৮ গ্রাম ওজনের মোট ৫,৯৮০টি নিষিদ্ধ ইয়াবা (Yaba) ট্যাবলেট উদ্ধার করতে সক্ষম হয় পুলিশ বাহিনী। মাদক পাচারের অভিযোগে পুলিশ তৎক্ষণাৎ অভিযুক্ত ব্যক্তিকে গ্রেফতার করে এবং তার ব্যবহৃত স্কুটিটি বাজেয়াপ্ত করে। ধৃত ব্যক্তি খোয়াই থানাধীন সোনাতলা এলাকার বাসিন্দা বলে জানা গেছে।
বাইজালবাড়ি থানার পুলিশ জানিয়েছে, ধৃত মাদক কারবারির বিরুদ্ধে এনডিপিস (NDPS) আইনের কঠোর ধারায় একটি সুনির্দিষ্ট মামলা দায়ের করা হচ্ছে। এই মাদক চক্রের মূল শিকড় কতদূর বিস্তৃত এবং এর সাথে সোনাতলা বা বহিঃরাজ্যের আর কোনো বড় মাথা জড়িত রয়েছে কি না, তা উদঘাটন করতে পুলিশ ধৃতকে জিজ্ঞাসাবাদ করে জোরদার তদন্ত শুরু করেছে।
তবে পুলিশের এই সাফল্য সত্ত্বেও জেলাজুড়ে জনমনে উদ্বেগ কমছে না। সাধারণ জনগণের মতে, বিগত কিছুদিন বড় কোনো ধরপাকড় না হওয়ায় নেশার কারবারীরা দীর্ঘদিন গা ঢাকা দিয়েছিল। কিন্তু এখন তারা পুলিশের চোখকে ফাঁকি দিয়ে পুনরায় মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে, যার জ্বলন্ত প্রমাণ মিলছে গত কয়েকদিনের একের পর এক মাদক উদ্ধারের ঘটনায়। সীমান্ত ঘেঁষা এই জেলায় মাদকের থাবা রুখতে পুলিশ প্রশাসনকে আরও বেশি সক্রিয় ও নিশ্ছিদ্র নজরদারি গড়ে তোলার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন নাগরিক মহল।

FacebookTwitterGoogle+Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*