আপডেট প্রতিনিধি, আগরতলা, ১৯ মে || অভাব, প্রতিকূলতা আর জীবনের কঠিন বাস্তবতাকে সঙ্গী করেই এগিয়েছেন তিনি। কখনও রাজমিস্ত্রীর কাজ, কখনও আবার সিকিউরিটি গার্ড হিসেবে দায়িত্ব পালন—এসব পেশার মধ্য দিয়েই জীবনের সংগ্রাম চালিয়ে গেছেন জালাল মিয়া। আজ সেই মানুষই শিক্ষকতার আসনে প্রতিষ্ঠিত হয়ে বহু মানুষের কাছে হয়ে উঠেছেন অনুপ্রেরণার প্রতীক।
ত্রিপুরার ভবানীপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত দুর্লভপুর গ্রামের বাসিন্দা জালাল মিয়ার শৈশব কেটেছে নানা প্রতিকূলতার মধ্যে। বাবা-মাকে হারিয়ে অল্প বয়সেই জীবনের কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হয় তাঁকে। তবে দারিদ্র্য কিংবা অসহায়ত্ব তাঁর স্বপ্নকে থামিয়ে দিতে পারেনি।
জীবিকা নির্বাহের জন্য দিনমজুর, রাজমিস্ত্রী এবং নিরাপত্তারক্ষীর মতো বিভিন্ন পেশায় কাজ করলেও পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ কখনও হারাননি তিনি। কঠোর পরিশ্রম, অধ্যবসায় ও অদম্য মানসিক শক্তির জোরে দীর্ঘ সংগ্রামের পর অবশেষে শিক্ষকতার পেশায় নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষম হন জালাল মিয়া।
বর্তমানে তাঁর এই সাফল্যের গল্প স্থানীয় এলাকাসহ সমাজের বিভিন্ন স্তরে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। অনেকের মতে, জালাল মিয়ার জীবন প্রমাণ করে—পরিস্থিতি যতই কঠিন হোক না কেন, দৃঢ় ইচ্ছাশক্তি ও পরিশ্রম থাকলে স্বপ্ন পূরণ সম্ভব।
জালাল মিয়ার জীবনসংগ্রাম আজ বহু তরুণ-তরুণীর কাছে নতুন করে আশা জাগাচ্ছে এবং প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে লড়াই করার সাহস জোগাচ্ছে।
