গোপাল সিং, খোয়াই, ২২ মে || আন্তর্জাতিক স্তরে নৃত্যে বিশেষ কৃতিত্বের জন্য ‘ইন্টারন্যাশনাল আইকন অ্যাওয়ার্ড ২০২৬’ (International Icon Award 2026) লাভ করে রাজ্য তথা মহকুমার নাম উজ্জ্বল করেছে অমরপুরের মেয়ে ঋষিকা চৌহান। অভাবের সংসারে বড় হওয়া ঋষিকার এই অভাবনীয় সাফল্যে খুশির হাওয়া ত্রিপুরা জুড়েই। এবার সেই কৃতি কন্যার এই অনন্য সাফল্যকে সম্মান ও শুভেচ্ছা জানাতে স্বয়ং আগরতলায় তার বর্তমান বাসভবনে ছুটে গেলেন ‘জ্বালামুখী’ সাহিত্য পত্রিকার সম্পাদক সুবীর সেন ঘোষ।
জানা গেছে, ঋষিকা চৌহানের মূল বাড়ি অমরপুর মহকুমার অমরপুর নগর পঞ্চায়েত এলাকার ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাঁঠাল বাগান এলাকায়। তার পিতা রাকেশ চৌহান পেশায় একজন সাধারণ অটো শ্রমিক। তবে বর্তমানে কর্মসূত্রে রাকেশ বাবু তাঁর পরিবার নিয়ে আগরতলার বড়জলা বিধানসভা কেন্দ্রের উষা বাজার বিন পাড়া এলাকায় স্থানান্তরিত বা শিফট হয়েছেন। ঋষিকা ‘জ্বালামুখী’ সম্পাদকের নিজের খাস প্রতিবেশী।
নিজের চার দিনের আগরতলা সফরের তৃতীয় দিনে, আজ শুক্রবার দুপুর আনুমানিক ১টা নাগাদ উষা বাজার বিন পাড়াস্থিত রাকেশ চৌহানের বাসভবনে পৌঁছান সম্পাদক সুবীর সেন ঘোষ। তাঁর এই বিশেষ আমন্ত্রণে তাঁর সফরসঙ্গী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উষা বাজারের বনেদি ক্লাব ‘ভারতরত্ন সংঘ’-এর অন্যতম দায়িত্বশীল ও বিশিষ্ট কর্মকর্তা সন্দীপ দেব।
এদিন ঋষিকার বাড়িতে গিয়ে তাকে উত্তরীয় পরিয়ে আন্তরিক শুভেচ্ছা, অভিনন্দন ও আশীর্বাদ জানান সম্পাদক। সেই সাথে কৃতি এই নৃত্যশিল্পীকে আরও উৎসাহিত করতে তার হাতে একটি ডাইরি, কলম এবং নিজের সম্পাদিত “জ্বালামুখী” সাহিত্য পত্রিকার একটি সৌজন্য সংখ্যা ও ক্যালেন্ডার তুলে দেওয়া হয়। উপস্থিত সকলে ঋষিকার মুখে মিষ্টি তুলে দিয়ে তার উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ এবং উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করেন।
এক অটো শ্রমিকের মেয়ের এই আন্তর্জাতিক স্তরের সাফল্য প্রসঙ্গে নিজের অনুভূতি ব্যক্ত করতে গিয়ে অত্যন্ত আবেগঘন কণ্ঠে ‘জ্বালামুখী’ সম্পাদক সুবীর সেন ঘোষ জানান, “আজ আমার জন্য অত্যন্ত আনন্দের ও গর্বের একটি দিন। ঘরের পাশের একটা মেয়ে আজ আন্তর্জাতিক মঞ্চে ত্রিপুরার নাম উজ্জ্বল করেছে। তার এই কঠিন লড়াই ও সাফল্য আগামী দিনে রাজ্যের বহু ছাত্রছাত্রীকে অনুপ্রাণিত করবে।” এক সাধারণ পরিবারের মেয়ের এই বিশ্বমঞ্চ জয়ের কাহিনীকে সাধুবাদ জানাচ্ছে ত্রিপুরাবাসী।
