সুব্রত দাস, গন্ডাছড়া, ০১ জুন || এ বছর আমের বাম্পার ফলন হলেও ক্রেতার অভাবে চরম সংকটে পড়েছেন গন্ডাছড়ার আম চাষিরা। উৎপাদন ভালো হলেও বাজারে চাহিদা কম থাকায় ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন না কৃষকরা। ফলে পরিশ্রম ও বিনিয়োগের খরচও তুলতে হিমশিম খেতে হচ্ছে তাঁদের।
স্থানীয় আম চাষি মিন্টু চাকমা জানান, গত বছরের তুলনায় এ বছর বাজারে আমের চাহিদা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। তিনি বলেন, “অনেক পরিশ্রম করে আম ফলিয়েছি, কিন্তু বিক্রি করতে পারছি না। গত বছর জাপানি জাতের মিয়াজাকি আম ১,০০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছিল। অথচ এ বছর ৬০০ টাকা কেজি দামেও কোনো ক্রেতা পাওয়া যাচ্ছে না। এই অবস্থায় চাষ চালিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।”
বিশেষজ্ঞদের মতে, মিয়াজাকি আম বিশ্বের অন্যতম দামি ও জনপ্রিয় আমের জাত। এই আম উৎপাদনে অতিরিক্ত যত্ন ও বিনিয়োগের প্রয়োজন হয়। কিন্তু বাজারে চাহিদা কমে যাওয়ায় এবার সেই আমও প্রত্যাশিত মূল্য পাচ্ছে না। গত বছরের তুলনায় প্রায় অর্ধেক দামে বিক্রির চেষ্টা করেও ক্রেতা না পাওয়ার ঘটনা স্থানীয় কৃষি বিপণন ব্যবস্থার দুর্বলতাকেই সামনে নিয়ে এসেছে।
চাষিদের অভিযোগ, ভালো ফলন মানেই লাভ নয়। বাজারে পণ্য পৌঁছানোর পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেই, নেই সংরক্ষণের আধুনিক পরিকাঠামো। মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্যে কৃষকরা বারবার ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। অন্যদিকে আম দ্রুত পচনশীল হওয়ায় নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বিক্রি না করতে পারলে বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়তে হচ্ছে।
এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য স্থানীয় চাষিরা সরকারের কাছে দ্রুত কোল্ড স্টোরেজ স্থাপনের দাবি জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, সংরক্ষণের ব্যবস্থা থাকলে ফল দীর্ঘদিন ভালো রাখা সম্ভব হবে এবং সুবিধাজনক সময়ে বাজারে বিক্রি করে ন্যায্যমূল্য পাওয়া যাবে। পাশাপাশি সরকারি ক্রয় কর্মসূচি ও বিপণন সহায়তা চালুরও দাবি তুলেছেন তাঁরা।
উল্লেখ্য, গন্ডাছড়া ও ধলাই জেলার বিস্তীর্ণ পাহাড়ি এলাকায় সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আম চাষের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বহু পরিবার বর্তমানে ফলচাষের উপর নির্ভরশীল। তবে বাজার সংযোগ, সংরক্ষণ ব্যবস্থা ও সরকারি সহায়তার অভাবে এই সম্ভাবনাময় কৃষিখাত বারবার সংকটের মুখে পড়ছে। চাষিদের দাবি, শুধু প্রকল্প ঘোষণা নয়, বাস্তবমুখী ও কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের মাধ্যমেই এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব।
