পরকীয়া করতে গিয়ে স্ত্রীর হাতে ধৃত সরকারি কর্মচারী, বিধবা মহিলার ঘরে দুই দিন কাটানোর পর লঙ্কাকাণ্ড এলাকায় তুমুল চাঞ্চল্য

গোপাল সিং, খোয়াই, ০১ জুন || মনুস্থিত নিজের বাড়িতে যাওয়ার নাম করে খোয়াইয়ে এক বিধবা মহিলার ঘরে দুই দিন ধরে লুকিয়ে পরকীয়া চালাচ্ছিলেন স্বামী। কিন্তু শেষরক্ষা হলো না। আজ খোয়াই সরকারী দ্বাদশ শ্রেণি বিদ্যালয়ের বোর্ডিং সংলগ্ন এলাকায় নিজের স্ত্রীর হাতেই একেবারে আপত্তিকর অবস্থায় হাতেনাতে ধরা পড়লেন উপেন্দ্র দেববর্মা নামের এক সরকারি কর্মচারী। রক্ষক ও সমাজের আদর্শ হওয়ার বদলে খোদ এক সরকারি বাবুর এমন অনৈতিক কীর্তি প্রকাশ্যে আসতেই গোটা স্কুল সংলগ্ন এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ও ব্যাপক আলোড়ন ছড়িয়ে পড়েছে।
ঘটনার বিবরণে জানা গেছে, ধৃত ওই সরকারি কর্মচারীর নাম উপেন্দ্র দেববর্মা। তিনি তাঁর পরিবারকে জানিয়েছিলেন যে বিশেষ প্রয়োজনে তিনি মনুস্থিত নিজের বাড়িতে যাচ্ছেন। কিন্তু বাড়িতে না গিয়ে তিনি গত দুই দিন ধরে খোয়াই সরকারী দ্বাদশ শ্রেণি বিদ্যালয়ের বোর্ডিং সংলগ্ন এলাকায় এক বিধবা মহিলার ঘরে গোপনে অবস্থান করছিলেন এবং তাঁর সাথে অবৈধ মেলামেশা চালিয়ে যাচ্ছিলেন। স্বামীর এই হঠাৎ নিখোঁজ হওয়া এবং গতিবিধি নিয়ে স্ত্রীর মনে দীর্ঘদিনের সন্দেহ ছিল। সেই সন্দেহের বশেই শনিবার সকালে স্ত্রী নিজে ওই নির্দিষ্ট এলাকায় গোপনে ওত পেতে বসেন।
পরবর্তীতে গত শনিবার সকালে ওই বিধবা মহিলার ঘরে আচমকা হানা দিয়ে নিজের স্বামীকে অন্য মহিলার সাথে আপত্তিকর অবস্থায় ধরে ফেলেন তাঁর স্ত্রী। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ঘরের ভেতর ও বাইরে তুমুল চিৎকার-চেঁচামেচি এবং লঙ্কাকাণ্ড শুরু হয়ে যায়। প্রতিবেশীরাও ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। তবে এখানেই দমে যাননি ভুক্তভোগী স্ত্রী। তিনি ঘরে লুকিয়ে থাকা সমাজের এই তথাকথিত ভদ্র ও প্রভাবশালী সরকারি কর্মচারীর আসল মুখোশ খুলে দিতে নিজেই তৎক্ষণাৎ সংবাদ মাধ্যমকে খবর দেন।
মিডিয়ার ক্যামেরা ও সাংবাদিকদের সামনে এনে তিনি স্বামীর এই চরম বিশ্বাসঘতকতা ও পরকীয়া কাণ্ডের আদ্যোপান্ত সমাজের সামনে তুলে ধরার সাহসী প্রয়াস হাতে নেন। খবর পেয়ে ছুটে আসে মহিলা থানার পুলিশ। তুলে নিয়ে যায় উপেন্দ্র দেববর্মাকে। খোদ সরকারি কর্মচারীর এমন চারিত্রিক স্কলন এবং স্ত্রীর এই আকস্মিক অভিযানে খোয়াই শহর জুড়ে এখন তীব্র গুঞ্জন ও চর্চা চলছে।

FacebookTwitterGoogle+Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*