বিকশিত ভারত গঠনে অঙ্গনওয়াড়ির ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ: কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অন্নপূর্ণা দেবী

আপডেট প্রতিনিধি, আগরতলা, ৩০ জুন || রাজ্যের মহিলা ও শিশু কল্যাণমূলক বিভিন্ন প্রকল্পের অগ্রগতি ও বাস্তবায়ন খতিয়ে দেখতে মঙ্গলবার আগরতলার রাজ্য অতিথিশালার মিলনায়তনে সমাজকল্যাণ ও সমাজ শিক্ষা দপ্তরের উদ্যোগে এক উচ্চপর্যায়ের পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের অগ্রগতি, নির্মীয়মাণ কাজ এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
সভায় উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় মহিলা ও শিশু উন্নয়ন মন্ত্রী অন্নপূর্ণা দেবী, সমাজকল্যাণ ও সমাজ শিক্ষা দপ্তরের মন্ত্রী টিংকু রায়, চাইল্ড রাইট কমিশনের চেয়ারম্যান জয়ন্তী দেববর্মা, রাজ্য মহিলা কমিশনের ভাইস চেয়ারপার্সন মধুমিতা চক্রবর্তী, মহিলা ও শিশু উন্নয়ন মন্ত্রকের যুগ্ম সচিব অজিত কুমার, সমাজকল্যাণ ও সমাজ শিক্ষা দপ্তরের বিশেষ সচিব তপন কুমার দাস, বিভিন্ন জেলার জেলাশাসক, অতিরিক্ত জেলাশাসক এবং দপ্তরের অন্যান্য আধিকারিকরা।
পর্যালোচনা সভায় ‘সক্ষম অঙ্গনওয়াড়ি ও পোষণ ২.০’, পিএম জনমন, মুখ্যমন্ত্রী পুষ্টি উপহার, মুখ্যমন্ত্রী বালিকা সমৃদ্ধি যোজনা, মুখ্যমন্ত্রী পোষণ অভিযান, মিশন শক্তি, বেটি বাঁচাও বেটি পড়াও, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ, মুখ্যমন্ত্রী কন্যা বিবাহ যোজনা এবং বাৎসল্য মিশনসহ বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের অগ্রগতি নিয়ে বিস্তারিত পর্যালোচনা করা হয়। পাশাপাশি চলমান অবকাঠামোগত উন্নয়নমূলক কাজ নিয়েও আলোচনা হয়।
সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অন্নপূর্ণা দেবী বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি>-র ‘বিকশিত ভারত ২০৪৭’ এবং ‘এক ভারত, শ্রেষ্ঠ ভারত’-এর স্বপ্ন বাস্তবায়নে দেশের প্রতিটি নাগরিককে একযোগে কাজ করতে হবে। তাঁর মতে, একটি বিকশিত দেশের ভিত্তি তৈরি হয় অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র থেকেই। শিশুদের সুষ্ঠু পরিচর্যা, পুষ্টি ও শিক্ষার মাধ্যমে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে গড়ে তুলতে পারলেই উন্নত ভারতের লক্ষ্য অর্জন সম্ভব।
তিনি আরও বলেন, বাল্যবিবাহ ও মাদকাসক্তি সমাজের অন্যতম বড় সমস্যা। এগুলো রুখতে প্রশাসনের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণও জরুরি। এ বিষয়ে আরও বেশি সচেতনতামূলক কর্মসূচি গ্রহণের ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি দেশজুড়ে বাল্যবিবাহমুক্ত গ্রাম গড়ে তোলার লক্ষ্যে কেন্দ্রীয় সরকারের উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন। সরকারের বিভিন্ন কল্যাণমূলক প্রকল্প প্রকৃত উপভোক্তাদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার মাধ্যমে রাজ্য ও দেশের সার্বিক উন্নয়ন সম্ভব বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সভায় রাজ্যের সমাজকল্যাণ ও সমাজ শিক্ষা দপ্তরের মন্ত্রী টিংকু রায় জানান, কেন্দ্রীয় সরকারের নির্দেশিকা মেনেই রাজ্য সরকার বিভিন্ন সামাজিক উন্নয়নমূলক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। রক্তদান, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ, মাদকবিরোধী প্রচারসহ সমাজের বিভিন্ন সমস্যা মোকাবিলায় ধারাবাহিকভাবে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং জনসম্পৃক্ত কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। সমাজের সামগ্রিক উন্নয়নে সরকার ও সংশ্লিষ্ট দপ্তর সমন্বিতভাবে কাজ করে চলেছে বলেও তিনি জানান।

FacebookTwitterGoogle+Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*