চার বছরে সাইবার প্রতারণায় ত্রিপুরায় ৮৩ কোটিরও বেশি টাকার ক্ষতি, নিরাপত্তা জোরদারে রাজ্য সরকারের উদ্যোগ

আপডেট প্রতিনিধি, আগরতলা, ৩০ জুন || গত চার বছরে সাইবার প্রতারণার শিকার হয়ে ত্রিপুরার মানুষ ৮৩ কোটিরও বেশি টাকা হারিয়েছেন। এই উদ্বেগজনক পরিস্থিতি মোকাবিলায় সাইবার নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী করা এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে উদ্যোগ নিয়েছে রাজ্য সরকার। এই উদ্দেশ্যে তথ্যপ্রযুক্তি অধিদপ্তর, ত্রিপুরা সরকার, কেন্দ্রীয় ইলেকট্রনিক্স ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রকের ন্যাশনাল ই-গভর্ন্যান্স ডিভিশন (এনইজিডি)-এর সহযোগিতায় এক উচ্চপর্যায়ের কর্মশালার আয়োজন করা হয়।
কর্মশালার উদ্বোধন করেন রাজ্যের মুখ্যসচিব জিতেন্দ্র কুমার সিনহা। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাজ্য পুলিশের মহাপরিচালক অনুরাগ, প্রধান মুখ্য বনপাল আর. কে. সামাল, তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের অধিকর্তা জেয়া রাগুল গেশন বি, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের শীর্ষ আধিকারিক, এনইজিডি-র প্রতিনিধি, সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ এবং নিউ জেনারেশন ইনোভেশন নেটওয়ার্ক-এর প্রতিনিধিরা।
কর্মশালায় জানানো হয়, ডিজিটাল ইন্ডিয়া কর্মসূচি বাস্তবায়নে ত্রিপুরা উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে। গ্রাম পঞ্চায়েত স্তর পর্যন্ত ই-অফিস ব্যবস্থা চালু করে সম্পূর্ণ কাগজবিহীন প্রশাসনিক কাঠামো গড়ে তোলার ক্ষেত্রে দেশের প্রথম রাজ্য হিসেবে ত্রিপুরা বিশেষ স্বীকৃতি পেয়েছে। পাশাপাশি ত্রিপুরা স্টেট ডেটা সেন্টারের আধুনিকীকরণ, সিকিউরিটি অপারেশন সেন্টার নেটওয়ার্কের সম্প্রসারণ, গ্রামীণ এলাকায় ভারতনেট পরিষেবা বিস্তার এবং বিভিন্ন ডিজিটাল জনপরিষেবা প্রকল্পের অগ্রগতিও তুলে ধরা হয়।
মুখ্যসচিব জিতেন্দ্র কুমার সিনহা বলেন, ডিজিটাল শাসনব্যবস্থার বিস্তারের ফলে বিপুল পরিমাণ সরকারি ও নাগরিক তথ্য অনলাইনে সংরক্ষিত হচ্ছে। তাই সাইবার নিরাপত্তা এখন শুধু প্রযুক্তিগত বিষয় নয়, বরং প্রশাসনিক অগ্রাধিকারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র। তিনি সরকারি ডিজিটাল সম্পদ সুরক্ষায় আধুনিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা, নিয়মিত নজরদারি এবং দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন।
তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের অধিকর্তা জেয়া রাগুল গেশন বি জানান, রাজ্যে কার্যকর হওয়া ‘ত্রিপুরা সাইবার নিরাপত্তা নীতি-২০২৫’-এর আওতায় সরকারি ডিজিটাল পরিকাঠামোর সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে রাজ্য ডেটা সেন্টার ও নেটওয়ার্ক ব্যবস্থার উন্নয়ন, বিভিন্ন দপ্তরের মধ্যে সমন্বয়, ঝুঁকি মূল্যায়ন, পুরনো প্রযুক্তির আধুনিকীকরণ, নিরাপদ নকশাভিত্তিক ব্যবস্থা এবং জিরো-ট্রাস্ট আর্কিটেকচার বাস্তবায়নের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
কর্মশালায় সরকারি আধিকারিক ও প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা রাজ্যের বর্তমান সাইবার নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে সম্ভাব্য ঝুঁকি ও দুর্বলতা চিহ্নিত করেন। ভবিষ্যতে আরও শক্তিশালী সাইবার নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যে একাধিক সুপারিশও প্রণয়ন করা হয়। এসব সুপারিশ জাতীয় পর্যায়ে প্রণীতব্য সাইবার নিরাপত্তা কাঠামোর অংশ হিসেবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে।
রাজ্য সরকারের প্রত্যাশা, এই কর্মশালার মাধ্যমে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের মধ্যে সমন্বয় আরও সুদৃঢ় হবে, সাইবার নিরাপত্তা বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি পাবে এবং ভবিষ্যতে আরও নিরাপদ, নির্ভরযোগ্য ও শক্তিশালী ডিজিটাল প্রশাসনিক ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব হবে।

FacebookTwitterGoogle+Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*