গোপল সিং, খোয়াই, ০২ জুলাই || “পূর্বতন সরকার এমজিএনরেগার মাধ্যমে যে ধরণের কাজ করিয়েছেন, তাতে গোটা রাজ্য আজ জলের উপর ভাসছে। কাজের নামে কেবলই প্রহসন হয়েছে।” বৃহস্পতিবার খোয়াই নতুন টাউন হলে ‘ভিবি-জি-রামজি’ প্রকল্পের সূচনা করে পূর্বতন সরকারকে এভাবেই তীব্র আক্রমণ শানালেন ত্রিপুরা বিধানসভার মুখ্য সচেতক তথা বিধায়িকা কল্যাণী রায় সাহা।
জেলা প্রশাসনের আহ্বানে আজ খোয়াই নতুন টাউন হলে ‘ভিবি-জি-রামজি’ প্রকল্পের সূচনা ও এক বর্ণাঢ্য জন-সম্মেলন সফলভাবে অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানের শুভ উদ্বোধন করেন মুখ্য সচেতক কল্যাণী রায় সাহা। এই কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে তিনি বিরোধীদের অপপ্রচারের কড়া জবাব দেন। তিনি বলেন, এমজিএনরেগার পরিবর্তিত নাম নিয়ে বিরোধীরা রাজনৈতিক চক্রান্ত করার চেষ্টা করলেও, আখেরে এই নতুন ‘ভিবি-জি-রামজি’ প্রকল্পে সবচেয়ে বেশি লাভবান হচ্ছেন গ্রামীণ শ্রমিক, কৃষক, যুব ও মহিলারা।
বিধায়িকা আরও জানান, নতুন এই রূপরেখায় এখন আর শ্রমিকদের শুধু ঐতিহ্যগত উপায়ে মাটি কাটার কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে না। বরং, তাঁদের দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে বিভিন্ন স্থায়ী সরকারী নির্মাণকাজে নিযুক্ত করা হচ্ছে। সবথেকে বড় বিষয় হলো, আগে যেখানে ১০০ দিনের কাজের নিশ্চয়তা ছিল, এই নতুন প্রকল্পে এখন কর্মদিবস বাড়িয়ে ১২৫ দিন করা হয়েছে।
এদিনের সম্মেলনে মূল সুরই ছিল গ্রামীণ অর্থনীতির রূপান্তর। মঞ্চ থেকে স্লোগান তোলা হয়, “কাজের নিশ্চয়তা, জীবিকার অধিকার— বিকশিত ভারতের এটাই অঙ্গীকার। গ্রামে গ্রামে উন্নয়নের নতুন বার্তা, আত্মনির্ভর ভারত গড়াই আমাদের প্রত্যয়।”
আজকের এই গুরুত্বপূর্ণ জন-সম্মেলনে খোয়াই জেলা শাসক রজত পন্থ, এসসি কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান সমীর কুমার দাস, জিলা সভাধিপতি অপর্ণা সিংহরায়, এমডিসি প্রশমিত দেববর্মা সহ জেলা প্রশাসনের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান থেকে ‘বিকশিত ভারত – গ্যারান্টি ফর রোজগার ও আজীবিকা’-এর লক্ষ্য, উদ্দেশ্য ও জনকল্যাণমূলক ভাবনা সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করা হয়।
উল্লেখ্য, আজ অন্ধ্রপ্রদেশের তিরুপতি জেলার মুক্কাভারিপল্লী গ্রাম থেকে জাতীয় স্তরে আনুষ্ঠানিকভাবে এই ‘VB-G RAM G’ (Viksit Bharat – Guarantee for Rozgar and Aajeevika Mission – Gramin) প্রকল্পের সূচনা করা হয়েছে। গ্রামীণ ভারতের খোলনলচে বদলে দিতে এটি একটি অত্যন্ত যুগান্তকারী পদক্ষেপ। কর্মসংস্থান সৃষ্টির পাশাপাশি গ্রামীণ উন্নয়নের মেলবন্ধন ঘটিয়ে স্বনির্ভর, সমৃদ্ধ ও ভবিষ্যৎ-মুখী গ্রাম গড়ে তোলাই এই নতুন প্রকল্পের মূল রূপরেখা। আর সেই লক্ষ্যেই এবার ত্রিপুরাতেও নতুন উদ্যমে কাজ শুরু হলো বলে প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে।
