আপডেট প্রতিনিধি, আগরতলা, ০২ জুলাই || উত্তর-পূর্বাঞ্চলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও রাজ্যের গর্ব হিসেবে পরিচিত আগরতলা রেলস্টেশন ক্রমশ মাদক পাচারকারীদের নিরাপদ করিডোরে পরিণত হচ্ছে বলে উদ্বেগ বাড়ছে। বৃহস্পতিবার একদিনেই পরপর দুটি পৃথক অভিযানে বিপুল পরিমাণ মাদক ও সন্দেহজনক সামগ্রী উদ্ধার হওয়ায় ফের সামনে এসেছে রেলপথে সংঘবদ্ধ মাদক চক্রের সক্রিয়তার বিষয়টি।
প্রথম অভিযানে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা ডিআরআই (ডিরেক্টরেট অব রেভিনিউ ইন্টেলিজেন্স) এবং আসাম রাইফেলস যৌথভাবে আগরতলা রেলস্টেশনে একটি মালবাহী ট্রেনের বগিতে তল্লাশি চালিয়ে প্রায় ৬০ হাজার বোতল নেশাজাতীয় এসকফ উদ্ধার করে। উদ্ধার হওয়া এই বিপুল পরিমাণ মাদকের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় সাড়ে ৬ কোটি টাকা বলে জানা গেছে। এই সফল অভিযানে আবারও প্রমাণিত হয়েছে যে, রেলপথকে ব্যবহার করে বড় আকারে মাদক পাচারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
এর কিছুক্ষণ পরেই আগরতলা জিআরপি থানার পুলিশ আরেকটি রেলের বগিতে অভিযান চালিয়ে ড্রামভর্তি সন্দেহজনক সামগ্রী উদ্ধার করে। উদ্ধার হওয়া ড্রামগুলোর ভেতরের সামগ্রী পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে। তদন্তকারীদের ধারণা, এগুলোর সঙ্গেও মাদক পাচার চক্রের যোগসূত্র থাকতে পারে।
একদিনে পরপর এই দুটি বড় উদ্ধার অভিযানের পর স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, কীভাবে আগরতলা রেলস্টেশনকে ব্যবহার করে বারবার বিপুল পরিমাণ মাদক পাচারের চেষ্টা চলছে। নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও নজরদারি নিয়ে বিভিন্ন মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
তদন্তকারী সংস্থাগুলি গোটা ঘটনার সঙ্গে জড়িত পাচারচক্রের মূল হোতাদের চিহ্নিত করতে তদন্ত শুরু করেছে। পাশাপাশি উদ্ধার হওয়া সামগ্রীর প্রকৃত গন্তব্য, উৎস এবং এর সঙ্গে যুক্ত আন্তঃরাজ্য বা আন্তর্জাতিক চক্রের সম্ভাব্য সংযোগও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দাবি, ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান আরও জোরদার করা হবে এবং মাদক পাচারের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
