গোপল সিং, খোয়াই, ০২ জুলাই || তেলিয়ামুড়া, কল্যানপুর হয়ে দিয়ে নিষিদ্ধ নেশা কারবারের চক্র যে জাল তৈরী করে সাম্রাজ্য গড়ে তোলেছে তাতে আজ আরও একবার শিলমোহর পড়ল বলে অভিমত জনগণের। জিরানিয়ার পর এবার রাজধানী আগরতলা রেলস্টেশনে হানা দিয়ে প্রায় ৮ কোটি টাকারও বেশি পরিমাণ নিষিদ্ধ কফ সিরাপের মেগা চালান বাজেয়াপ্ত করল কেন্দ্রীয় ও রাজ্য স্তরের নিরাপত্তা বাহিনী। ধৃত ব্যক্তির নাম সুব্রত দেব, তিনি বি.কে. এন্টারপ্রাইজ নামক একটি সংস্থার ম্যানেজার হিসেবে কর্মরত। ধৃত সুব্রত দেবের বাড়ি কল্যানপুর থানাধীন বাতেখা বলে খবর পাওয়া যাচ্ছে। তাহলে তেলিয়ামুড়া ও কল্যানপুর হয়ে রাজধানী পর্যন্ত বিস্তৃত এই নিষিদ্ধ নেশা কারবারের সাম্রাজ্য নিয়ে পুলিশ প্রশাসনও যে অবহিত নয়, তা মানতে নারাজ জনসাধারণ।
অনুসন্ধানে উঠে আসছে আরও এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। বহিঃরাজ্য থেকে আসা মাদকের এক বড় তালিকায় মূল করিডোর হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে খোয়াই জেলা। জিরানিয়া ও আগরতলা রেলস্টেশনের এই বিপুল পরিমাণ মাদকের চালানের গন্তব্যও এই করিডোরই ছিল বলে ধারণা করছেন জনসাধারণ। তবে এই মেগা মাদক কেলেঙ্কারির পর এখন উঠছে এক বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন। কল্যানপুর থানাধীন বাতেখা গ্রামের নিবাসী সুব্রত দেবের মতো একজন সাধারণ ম্যানেজার কি এই কোটি কোটি টাকার কারবারের মূল চালিকাশক্তি, নাকি পর্দার আড়ালে থেকে সমাজকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেওয়া কোনো ক্ষমতাশালী ‘রক্ষকই’ আসলে এই ভক্ষকের ভূমিকা পালন করছে? কোনো প্রভাবশালী শক্তি বা ২/১ জন ‘রক্ষক’ কি এই চক্রের পেছনে ঢাল হিসেবে কাজ করছে? এই প্রশ্নগুলিই এখন বড় হয়ে দেখা দিয়েছে। ধৃত সুব্রত দেবকে ম্যারাথন জেরা করে এই করিডোরের আন্তর্জাতিক ড্রাগ সিন্ডিকেটের মূল পান্ডাদের মুখোশ খোলার চেষ্টা করছে পুলিশ ও ডিআরআই। ধৃতের বিরুদ্ধে এনডিপিএস আইনে মামলা নিয়ে ঘটনার বৃহত্তর তদন্ত শুরু হয়েছে।
এদিকে রেল পুলিশ ও যৌথ বাহিনী সূত্রে জানা গেছে, গোপন ও সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে আগরতলা রেল স্টেশনে আসা একটি ট্রেনের পার্সেল বগিতে আচমকা এই চিরুনি তল্লাশি চালানো হয়। পার্সেল বুকিংয়ের আড়ালে থাকা মোট ৮৯টি বড় বড় ড্রাম উদ্ধার করেন যৌথ বাহিনীর জওয়ানেরা। সেই ড্রামগুলি খুলে তল্লাশি চালাতেই চক্ষু চড়কগাছ তদন্তকারীদের। ড্রামগুলির ভেতর থেকে সর্বমোট ৫,৫০,৬২৬ বোতল নিষিদ্ধ এসকফ এবং ফেয়ারডিল কফ সিরাপ উদ্ধার করা হয়। রেল পুলিশের প্রাথমিক দাবি অনুযায়ী, উদ্ধারকৃত এই বিপুল পরিমাণ মাদকের আন্তর্জাতিক কালোবাজারি মূল্য প্রায় ৮ কোটি টাকারও বেশি (যার নির্দিষ্ট বাজার মূল্য ৬ কোটি ৫৪ লক্ষ ৪৩ হাজার ৯০০ টাকা)।
এই আন্তর্জাতিক চক্রের শিকড় উপড়ে ফেলতে এবং করিডোরের মূল মাথাদের খাঁচায় পুরতে পুলিশ ও গোয়েন্দা দপ্তর কি ভূমিকা নেয় এখন সেটাই দেখার।
