সড়ক দুর্ঘটনায় বৃদ্ধের মৃত্যু, আটক যুবককে ঘিরে উত্তেজনা; দুই ঘণ্টা জাতীয় সড়ক অবরোধ

সাগর দেব, তেলিয়ামুড়া, ১৫ জুলাই || তেলিয়ামুড়া থানাধীন অসম-আগরতলা জাতীয় সড়কের জারুইলং বাড়ি এলাকায় এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হওয়ার পর মৃত্যু হয়েছে প্রায় ৭০ বছর বয়সী প্রমোদ দাস নামে এক বৃদ্ধের। দুর্ঘটনার তদন্তে এক যুবককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে যাওয়াকে কেন্দ্র করে সোমবার রাত প্রায় ১০টা থেকে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। বিক্ষুব্ধ গ্রামবাসীরা জাতীয় সড়ক অবরোধ করলে প্রায় দুই ঘণ্টা যান চলাচল সম্পূর্ণ ব্যাহত হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার বিকেলে জারুইলং বাড়ি এলাকায় জাতীয় সড়কের ওপর গুরুতর আহত অবস্থায় পড়ে ছিলেন প্রমোদ দাস। স্থানীয়দের খবর পেয়ে অগ্নিনির্বাপক ও জরুরি পরিষেবা বিভাগের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাঁকে উদ্ধার করে তেলিয়ামুড়া মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাঁকে আগরতলার জিবি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।
ঘটনার কোনো প্রত্যক্ষদর্শী না থাকায় দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ প্রথমে স্পষ্ট ছিল না। তদন্তে নেমে পুলিশ স্থানীয় সূত্রে জানতে পারে, একটি মোটরসাইকেল বৃদ্ধকে ধাক্কা দিয়ে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। এছাড়া কয়েকজন স্থানীয় যুবক দুর্ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করতে পেরেছেন বলেও তথ্য মেলে। সেই সূত্র ধরেই তদন্তের স্বার্থে এলাকার এক যুবককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে যায় পুলিশ।
তবে ওই যুবককে থানায় নিয়ে যাওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। স্থানীয়দের দাবি, ওই যুবকের সঙ্গে দুর্ঘটনার কোনো সম্পর্ক নেই এবং একজন নিরপরাধ ব্যক্তিকে অযথা হয়রানি করা হচ্ছে। এই অভিযোগ তুলে সোমবার রাত প্রায় ১০টা নাগাদ গ্রামবাসীরা জারুইলং বাড়ি এলাকায় অসম-আগরতলা জাতীয় সড়ক অবরোধ করেন।
অবরোধের খবর পেয়ে তেলিয়ামুড়া থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অভিযোগ, উত্তেজিত জনতার একাংশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিদের ছবি ও ভিডিও ধারণ করতেও বাধা দেয়।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঘটনাস্থলে পৌঁছান তেলিয়ামুড়া মহকুমা পুলিশ আধিকারিক (এসডিপিও) রোহন কিসান। তিনি স্থানীয়দের সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ আলোচনা করলেও প্রথমদিকে সমাধানসূত্র বের হয়নি। পরে খোয়াই জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জাস্টিন জোসেফ ঘটনাস্থলে পৌঁছে গ্রাম প্রধান ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে বৈঠক করেন।
দীর্ঘ আলোচনার পর পুলিশ নিরপেক্ষ তদন্তের আশ্বাস দেয় এবং জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিয়ে যাওয়া যুবক তদন্তে সহযোগিতা করবেন বলে জানায়। এরপর তাঁকে আপাতত ছেড়ে দেওয়া হলে গ্রামবাসীরা অবরোধ প্রত্যাহার করেন। রাতেই জাতীয় সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
প্রায় দুই ঘণ্টার অবরোধের জেরে জাতীয় সড়কের দুই পাশে দূরপাল্লার পণ্যবাহী লরি, যাত্রীবাহী বাস ও ছোট গাড়িসহ অসংখ্য যানবাহন আটকে পড়ে। রাতের অন্ধকারে যাত্রীদের চরম ভোগান্তির মুখে পড়তে হয়।
এদিকে, প্রমোদ দাসের মৃত্যুর ঘটনায় এলাকাজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পলাতক মোটরসাইকেল আরোহীর পরিচয় শনাক্ত এবং দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তেলিয়ামুড়া থানার পুলিশ তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।

FacebookTwitterGoogle+Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*