বলরাম দেবনাথ, সাব্রুম, ১৫ জুলাই || দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে পুনরায় চালু হতে চলেছে দক্ষিণ ত্রিপুরার সাব্রুম মহকুমা হাসপাতালের ৫০০ এলএমপি (LPM) ক্ষমতাসম্পন্ন অক্সিজেন জেনারেশন প্লান্ট। দীর্ঘদিন অচল থাকার পর প্লান্টটি পুনরায় সচল করার কাজ শুরু হওয়ায় জেলার স্বাস্থ্য পরিষেবায় নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, প্লান্টটিকে দ্রুত চালু করার লক্ষ্যে আগরতলা থেকে একটি বিশেষজ্ঞ টেকনিশিয়ান দল ইতিমধ্যেই সাব্রুমে পৌঁছে মেরামতির কাজ শুরু করেছে। তারা প্লান্টের বিভিন্ন কারিগরি ত্রুটি পরীক্ষা করে প্রয়োজনীয় সংস্কার কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আশা, সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে খুব শীঘ্রই প্লান্টটি পুনরায় উৎপাদন শুরু করবে।
উল্লেখ্য, করোনা মহামারীর সময় অক্সিজেনের চাহিদা বিবেচনায় রেখে ২০২১ সালের ১২ সেপ্টেম্বর তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব এই অক্সিজেন জেনারেশন প্লান্টের উদ্বোধন করেছিলেন। কিন্তু পরবর্তী সময়ে যান্ত্রিক ও প্রশাসনিক নানা কারণে প্লান্টটির পরিষেবা বন্ধ হয়ে যায়।
তবে প্লান্টটি বন্ধ থাকলেও সাব্রুম মহকুমা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগীদের অক্সিজেন পরিষেবায় কোনো সমস্যা হয়নি। হাসপাতালের মেডিক্যাল গ্যাস পাইপলাইন সিস্টেম (MGPS)-এর মাধ্যমে রোগীদের প্রয়োজনীয় অক্সিজেন সরবরাহ নিয়মিতভাবে বজায় রাখা হয়েছে।
এ বিষয়ে সাব্রুম মহকুমা হাসপাতালের এসডিএমও (SDMO) ডা. নৃপেন্দ্র রিয়াং জানান, সরকারি উদ্যোগে প্লান্টটি সম্পূর্ণরূপে চালু হলে শুধু সাব্রুম মহকুমা হাসপাতালের চাহিদাই পূরণ হবে না, উৎপাদিত অক্সিজেন সিলিন্ডারের মাধ্যমে দক্ষিণ ত্রিপুরা জেলার অন্যান্য হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রেও অক্সিজেন সরবরাহ করা সম্ভব হবে। এতে জেলার স্বাস্থ্য পরিষেবার পরিকাঠামো আরও শক্তিশালী হবে এবং জরুরি পরিস্থিতিতে অক্সিজেনের জন্য বাইরের ওপর নির্ভরশীলতাও অনেকাংশে কমে আসবে।
স্বাস্থ্য দপ্তরের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের আশা, প্লান্টটি দ্রুত পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হলে ভবিষ্যতে যে কোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় দক্ষিণ ত্রিপুরা জেলা আরও বেশি প্রস্তুত থাকবে।
