হাইকোর্টের নির্দেশে মঠ চৌমুনীতে উচ্ছেদ অভিযান, ভাঙা হলো বিতর্কিত বাড়ির অংশ; জমি-বিবাদ নাকি অবৈধ নির্মাণ—জোর বিতর্ক

আপডেট প্রতিনিধি, আগরতলা, ১৫ জুলাই || রাজধানীর মঠ চৌমুনী এলাকায় হাইকোর্টের নির্দেশ বাস্তবায়ন করতে গিয়ে বুধবার একটি বিতর্কিত বাড়ির অংশ ভেঙে দেয় আগরতলা পুর নিগম। পুলিশি নিরাপত্তার মধ্যেই পরিচালিত এই উচ্ছেদ অভিযানকে কেন্দ্র করে এলাকাজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক দীপক পালের বাড়ির একটি অংশ বুলডোজারের সাহায্যে অপসারণ করা হলে ঘটনাস্থলে ভিড় করেন বহু কৌতূহলী মানুষ।
প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে, ২০২১-২২ সালে চয়ন পাল নামে এক ব্যক্তি হাইকোর্টে মামলা দায়ের করে অভিযোগ করেন যে সংশ্লিষ্ট বাড়ির একটি অংশ প্রয়োজনীয় অনুমোদন ও নির্মাণবিধি অনুসরণ না করেই নির্মাণ করা হয়েছে। মামলার দীর্ঘ শুনানির পর আদালত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেয়। সেই নির্দেশ কার্যকর করতেই বুধবার আগরতলা পুর নিগম উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করে।
অভিযান চলাকালীন এলাকায় পর্যাপ্ত পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়, যাতে কোনও অপ্রীতিকর পরিস্থিতির উদ্ভব না ঘটে। পুর নিগমের আধিকারিকদের উপস্থিতিতে শান্তিপূর্ণভাবেই পুরো উচ্ছেদ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়।
তবে বাড়ির মালিকপক্ষ প্রশাসনের দাবির সঙ্গে একমত নয়। তাঁদের অভিযোগ, এটি অবৈধ নির্মাণের ঘটনা নয়; বরং দুই ভাইয়ের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে চলা জমি-সংক্রান্ত বিরোধেরই পরিণতি। পরিবারের দাবি, প্রায় তিন দশক আগে নির্মিত বাড়ির একটি অংশকে অবৈধ আখ্যা দিয়ে ভেঙে ফেলা হয়েছে, যা তাঁদের কাছে অত্যন্ত বেদনাদায়ক এবং অন্যায্য সিদ্ধান্ত।
অন্যদিকে প্রশাসনের বক্তব্য, আদালতের নির্দেশ মেনেই সম্পূর্ণ আইনানুগ প্রক্রিয়ায় এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। হাইকোর্টের নির্দেশ বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে কোনও ধরনের ব্যত্যয় ঘটেনি বলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
ঘটনাকে ঘিরে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যেও মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। একাংশের মতে, অবৈধ নির্মাণের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। আবার অন্য অংশের দাবি, যেহেতু বিষয়টির সঙ্গে পারিবারিক জমি-বিবাদের অভিযোগও জড়িত, তাই সেই দিকটিও সমান গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা উচিত।
হাইকোর্টের নির্দেশে পরিচালিত এই উচ্ছেদ অভিযান এখন রাজধানীজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রে। আদালতের রায়, প্রশাসনের পদক্ষেপ এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের অভিযোগ—সব মিলিয়ে ঘটনাটি নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

FacebookTwitterGoogle+Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*