সরকারি অ্যাম্বুল্যান্সে রোগী পরিষেবার বদলে যাত্রী পরিবহণের অভিযোগ, প্রশ্নের মুখে তেলিয়ামুড়া হাসপাতাল

সাগর দেব, তেলিয়ামুড়া, ১৪ আগস্ট || সরকারি অ্যাম্বুল্যান্স কি শুধুই রোগী পরিষেবার কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে, নাকি রোগীকে গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়ার পর ফেরার পথে তা ব্যক্তিগত উপার্জনের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে? তেলিয়ামুড়া মহকুমা হাসপাতালের এক অ্যাম্বুল্যান্স চালকের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগকে ঘিরে এমনই প্রশ্ন সামনে এসেছে।
অভিযোগ, তেলিয়ামুড়া মহকুমা হাসপাতাল থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য কোনও রোগীকে অন্য হাসপাতালে রেফার করা হলে কর্তব্যরত অ্যাম্বুল্যান্স চালক রোগীকে নির্দিষ্ট গন্তব্যে পৌঁছে দেন। কিন্তু রোগীকে হাসপাতালে নামিয়ে দেওয়ার পর ফেরার পথে সরকারি অ্যাম্বুল্যান্সে যাত্রী পরিবহণ করে তাঁদের কাছ থেকে টাকা নেওয়া হয়। হাসপাতালের অ্যাম্বুল্যান্স চালক বিমল দাসের বিরুদ্ধে স্থানীয়দের একাংশ এমনই অভিযোগ তুলেছেন।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, বিষয়টি কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। রেফার করা রোগীকে গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়ার পর ফেরার পথে বিভিন্ন যাত্রীকে তাঁদের নির্দিষ্ট গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এর বিনিময়ে টাকা নেওয়া হয় বলেও দাবি স্থানীয়দের। ফলে সরকারি পরিষেবার জন্য ব্যবহৃত অ্যাম্বুল্যান্সকে ব্যক্তিগত অর্থ উপার্জনের কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, সরকারি অ্যাম্বুল্যান্সকে কি রোগী পরিবহণের নির্দিষ্ট দায়িত্বের বাইরে ভাড়ার গাড়ি হিসেবে ব্যবহার করা যায়? অভিযোগ সত্যি প্রমাণিত হলে সরকারি সম্পদের অপব্যবহারের পাশাপাশি জরুরি রোগী পরিষেবাতেও এর প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহলের একাংশ।
স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, এ ধরনের ঘটনা নিয়ে এর আগেও বিভিন্ন সময়ে আলোচনা হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তরফে দৃশ্যমান কোনও পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। ফলে একই ধরনের অভিযোগের পুনরাবৃত্তি ঘটছে বলেও দাবি তাঁদের। তাঁদের প্রশ্ন, সরকারি কর্মচারীর বিরুদ্ধে এমন গুরুতর অভিযোগ উঠলে কেন দ্রুত তদন্ত করে সত্যতা যাচাই করা হচ্ছে না?
তবে অ্যাম্বুল্যান্স চালক বিমল দাসের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি। তাঁর বক্তব্যও এই প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পাওয়া যায়নি। তাই অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে নিরপেক্ষ তদন্তের প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল।
সরকারি অ্যাম্বুল্যান্স সাধারণ মানুষের জরুরি চিকিৎসা পরিষেবার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। তাই তার ব্যবহার নিয়ে ওঠা অভিযোগকে গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত তদন্ত করা এবং অভিযোগের সত্যতা প্রকাশের দাবি উঠেছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে নিয়ম অনুযায়ী যথাযথ প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
এখন দেখার, তেলিয়ামুড়া মহকুমা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এই অভিযোগের পর কী পদক্ষেপ নেয় এবং তদন্তে সরকারি অ্যাম্বুল্যান্স ব্যবহারের বিষয়ে প্রকৃত তথ্য কী উঠে আসে।

FacebookTwitterGoogle+Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*