গোপাল সিং, খোয়াই, ২৬ আগস্ট || পশ্চিম ত্রিপুরা জেলার বরকাঠাল-অভিচরণ সড়ক সংলগ্ন সুমলি নদীতে লাইসেন্সবিহীন অবৈধ বালি-মাটি খননের অভিযোগকে কেন্দ্র করে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়েছে এলাকায়। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে নদীতে অবৈধভাবে খনন চলায় নদীর পাড়ে ব্যাপক ভাঙন দেখা দিয়েছে। সাম্প্রতিক বর্ষা ও বন্যার জেরে একাধিক কানি ফসলি জমি নদীগর্ভে চলে যাওয়ায় চরম বিপাকে পড়েছেন এলাকার কৃষক ও স্থানীয় বাসিন্দারা।
এই পরিস্থিতিতে বিষয়টি নিয়ে সরব হয়েছেন রামচন্দ্রঘাট বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক রঞ্জিত দেববর্মা। তিনি জানিয়েছেন, আগামী ২৭ আগস্ট বিধানসভা অধিবেশনে সুমলি নদীতে অবৈধ খনন, নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ এবং বন বিভাগের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলবেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বারবার প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে বিষয়টি জানানো হলেও কার্যকরী ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এরই প্রতিবাদে বুধবার ক্ষুব্ধ গ্রামবাসীরা সুমলি নদীর চড়ে অবৈধ খননে ব্যবহৃত একটি মেশিন ভাঙচুর করে কাজ বন্ধ করে দেন।
এদিকে ঘটনাস্থলে পশ্চিম জেলা ডিএফও দপ্তরের কয়েকজন কর্মীর বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগও উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, অবৈধ খনন বন্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পরিবর্তে ওই কর্মীরা মৎস্যজীবী ও স্থানীয়দের কাছ থেকে টাকা আদায়ের চেষ্টা করেন। এই অভিযোগে ক্ষুব্ধ গ্রামবাসীরা তাঁদের ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে দেন। তবে এই অভিযোগের স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, নদীভাঙনের কারণে শুধু কৃষিজমিই নয়, তাঁদের দীর্ঘদিনের জীবিকা ও বসতভিটাও হুমকির মুখে পড়েছে। অবিলম্বে নদীতে অবৈধ খনন বন্ধ করে ভাঙন রোধে স্থায়ী নদীবাঁধ নির্মাণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের উপযুক্ত সরকারি ক্ষতিপূরণের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
এখন বিধায়ক রঞ্জিত দেববর্মা বিধানসভায় বিষয়টি কতটা জোরালোভাবে তুলে ধরেন এবং প্রশাসনের পক্ষ থেকে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছেন সুমলি নদী তীরবর্তী এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ।
