সীমান্তে ১০ লক্ষ টাকার পাচারকৃত কাপড় আটক, পুলিশ-প্রশাসনের নজরদারি নিয়ে ক্ষোভ এলাকাবাসীর

সুব্রত দাস, গন্ডাছড়া, ২৬ আগস্ট || রইস্যাবাড়ি ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে ফের বড়সড় পাচারচক্রের হদিশ মিলেছে। সোমবার গভীর রাতে আনুমানিক রাত ২টা নাগাদ সিকান্দার বিওপি সংলগ্ন এলাকা থেকে ১৫৪ নম্বর বাহিনীর জওয়ানরা বিপুল পরিমাণ পাচারকৃত কাপড় আটক করেন। উদ্ধার হওয়া কাপড়ের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ১০ লক্ষ টাকা বলে জানা গেছে।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে সীমান্ত এলাকায় নতুন করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, রইস্যাবাড়ি সীমান্ত দিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই গরু, কাপড়, নেশাজাতীয় দ্রব্যসহ বিভিন্ন সামগ্রী পাচারের কারবার চলে আসছে। অভিযোগ উঠেছে, এতদিন ধরে এই বেআইনি কারবার চললেও তা বন্ধ করতে পুলিশের ভূমিকা কার্যকর হচ্ছে না।
বিশেষ করে রইস্যাবাড়ি থানার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ। তাদের অভিযোগ, একাধিকবার পাচার সংক্রান্ত অভিযোগ জানানো হলেও প্রত্যাশিত পদক্ষেপ দেখা যায়নি। এমনকি পুলিশের একাংশের বিরুদ্ধে পাচারকারীদের সঙ্গে যোগসাজশের অভিযোগও তুলেছেন কেউ কেউ। তবে এসব অভিযোগের কোনও স্বাধীন প্রমাণ এখনও প্রকাশ্যে আসেনি।
স্থানীয়দের আরও দাবি, কিছুদিন আগে সীমান্ত এলাকায় পাচার রুখতে মহকুমা প্রশাসনের উদ্যোগে অভিযান চালানো হলেও উল্লেখযোগ্য কোনও সামগ্রী উদ্ধার হয়নি। পরবর্তীতে প্রশাসনিক তৎপরতা বাড়ার পর বিএসএফের অভিযানে বিপুল পরিমাণ কাপড় আটক হওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছে—সীমান্তে নিয়মিত নজরদারি ও অভিযান কতটা কার্যকর হচ্ছে?
শুধু কাপড় বা গরু পাচার নয়, এই সীমান্তপথ দিয়ে অবৈধ অনুপ্রবেশ ও মানব পাচারের মতো গুরুতর অপরাধের অভিযোগও দীর্ঘদিন ধরে রয়েছে বলে দাবি স্থানীয়দের। ফলে স্পর্শকাতর এই সীমান্ত এলাকায় পুলিশ ও সীমান্তরক্ষী বাহিনীর নজরদারি আরও জোরদার করার দাবি উঠেছে।
এদিকে, একের পর এক অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে রইস্যাবাড়ি থানার ভূমিকা নিয়েও উচ্চস্তরের তদন্তের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। তাদের বক্তব্য, সীমান্ত পাচারের সঙ্গে প্রকৃতপক্ষে কারা জড়িত, কারা এই চক্রকে মদত দিচ্ছে এবং কোথাও প্রশাসনিক গাফিলতি রয়েছে কি না—তা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট হওয়া জরুরি।
তবে পুলিশ বা বিএসএফের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এখনও জানা যায়নি। পাচারচক্রের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক ও কঠোর অভিযান চালিয়ে সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন সাধারণ মানুষ।

FacebookTwitterGoogle+Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*