সুব্রত দাস, গন্ডাছড়া, ২৬ আগস্ট || গণ্ডাছড়া মহকুমা হাসপাতালে চিকিৎসক সংকট ক্রমেই তীব্র আকার ধারণ করছে। বিশেষ করে গাইনোকোলজিস্টের অভাবে চরম সমস্যার মুখে পড়েছেন প্রত্যন্ত পাহাড়ি এলাকার গর্ভবতী ও প্রসূতি মায়েরা। অভিযোগ, গণ্ডাছড়া মহকুমা হাসপাতালের গাইনোকোলজিস্ট চিকিৎসক অভিজিৎ দেববর্মা কাগজে-কলমে এই হাসপাতালেই কর্মরত থাকলেও দীর্ঘদিন ধরে ডেপুটেশনে বিশালগড় মহকুমা হাসপাতালে দায়িত্ব পালন করছেন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক থাকা সত্ত্বেও তাঁকে অন্যত্র ডেপুটেশনে রাখায় গণ্ডাছড়ার মানুষ কার্যত চিকিৎসা পরিষেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। দুর্গম পাহাড়ি এলাকা থেকে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে হাসপাতালে এসে উপযুক্ত চিকিৎসকের অভাবে অনেক গর্ভবতী মায়েকে অন্যত্র যেতে হচ্ছে। এতে রোগীদের পাশাপাশি তাঁদের পরিবারের সদস্যদেরও চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
স্থানীয়দের দীর্ঘদিনের দাবি, অবিলম্বে গণ্ডাছড়া মহকুমা হাসপাতালে একজন স্থায়ী গাইনোকোলজিস্টের ব্যবস্থা করতে হবে এবং ডেপুটেশনে থাকা চিকিৎসককে ফিরিয়ে এনে নিয়মিত পরিষেবা নিশ্চিত করতে হবে। তাঁদের প্রশ্ন, সরকারি হাসপাতালে কর্মরত চিকিৎসকের পরিষেবা যদি সংশ্লিষ্ট মহকুমার মানুষই না পান, তাহলে সেই ব্যবস্থার যৌক্তিকতা কোথায়?
এদিকে হাসপাতাল চত্বরের অপরিচ্ছন্নতা নিয়েও ক্ষোভ রয়েছে সাধারণ মানুষের মধ্যে। অভিযোগ, সাফাই কর্মীদের একাংশ নিয়মিত দায়িত্ব পালন করেন না। এ বিষয়ে জবাবদিহি চাইতে গেলে ঊর্ধ্বতন মহল থেকে ফোন আসার অভিযোগও উঠেছে। যদিও এসব অভিযোগের স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
এর পাশাপাশি হাসপাতাল ভবনের সংস্কার কাজ চলায় বর্তমানে বেডের সংকটও দেখা দিয়েছে বলে অভিযোগ। দূর-দূরান্ত থেকে আসা গুরুতর অসুস্থ রোগী এবং প্রসূতিদের ভর্তি করাতে গিয়ে সমস্যায় পড়ছেন পরিবারের সদস্যরা।
ফলে চিকিৎসকের অভাব, বেডের সংকট এবং পরিকাঠামোগত সমস্যায় একাধিক দিক থেকে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন গণ্ডাছড়ার সাধারণ মানুষ। স্থানীয় মহলের দাবি, দ্রুত পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে চিকিৎসক সংকট ও বেডের সমস্যা সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের স্পষ্ট দাবি, গণ্ডাছড়া মহকুমা হাসপাতালে চিকিৎসা পরিষেবা স্বাভাবিক রাখতে অবিলম্বে প্রয়োজনীয় সংখ্যক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নিয়োগ, ডেপুটেশন সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা এবং হাসপাতালের পরিকাঠামোর উন্নয়ন করতে হবে। অন্যথায় আগামী দিনে বৃহত্তর আন্দোলনের পথে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তাঁরা।
