নবারুণ চক্রবর্তী, সাব্রুম, ২৬ আগস্ট || ত্রিপুরায় ফুটবল মাঠে রেফারিদের নিরাপত্তা নিয়ে ফের বড় প্রশ্ন উঠেছে। একের পর এক ম্যাচে রেফারিদের হেনস্তা ও আক্রান্ত হওয়ার অভিযোগ সামনে আসায় উদ্বেগ বাড়ছে ক্রীড়ামহলে। রেফারিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ত্রিপুরা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে কার্যকর পদক্ষেপের দাবি উঠেছে।
অভিযোগ, গতকাল আগরতলায় একটি ফুটবল ম্যাচে রেফারি আক্রান্ত হওয়ার ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই বুধবার বিলোনিয়ায় আরও একটি অনভিপ্রেত ঘটনা ঘটে। বিলোনিয়া ওরিয়েন্টাল ক্লাবের উদ্যোগে আয়োজিত ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল ম্যাচ শেষ হওয়ার পর উগ্র সমর্থকদের হাতে রেফারিরা আক্রান্ত হন বলে অভিযোগ। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে নিরাপত্তার স্বার্থে রেফারিদের মাঠ থেকে দ্রুত বেরিয়ে যেতে হয়।
ঘটনার পর থেকেই প্রশ্ন উঠেছে—মাঠে নিরপেক্ষভাবে খেলা পরিচালনার পরও যদি রেফারিদের ম্যাচ শেষে সমর্থকদের রোষের মুখে পড়তে হয়, তাহলে তাঁদের নিরাপত্তার দায়িত্ব কার? কোথাও খেলোয়াড়, কোথাও ক্লাব কর্তৃপক্ষ কিংবা সমর্থকদের বিরুদ্ধে রেফারিদের হেনস্তার অভিযোগ উঠলে তার বিরুদ্ধে কার্যকর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।
AIFF-এর তথ্য অনুযায়ী, ত্রিপুরা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের অধীনে বর্তমানে ১৬৪ জন রেফারি এবং ৯৫টি অনুমোদিত ক্লাব রয়েছে। এত বড় ফুটবল কাঠামোর মধ্যে রেফারিদের নিরাপত্তার জন্য সুস্পষ্ট ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি বলে মনে করছেন ক্রীড়াপ্রেমীরা।
অভিযোগ উঠছে, রেফারিদের উপর হামলার মতো ঘটনা সামনে আসার পরও কেন কঠোর প্রতিবাদ বা সাংগঠনিক পদক্ষেপ চোখে পড়ছে না? অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ, ম্যাচ চলাকালীন পর্যাপ্ত নিরাপত্তা এবং রেফারিদের সুরক্ষায় নির্দিষ্ট নীতি চালুর দাবি উঠেছে।
কারণ রেফারি ছাড়া একটি ফুটবল ম্যাচ পরিচালনা কার্যত অসম্ভব। রেফারির সিদ্ধান্ত নিয়ে মতবিরোধ থাকতেই পারে, কিন্তু সেই সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে তাঁকে আক্রমণ বা হেনস্তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। রেফারিরা যদি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতে শুরু করেন, তাহলে তার সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে রাজ্যের ফুটবল পরিকাঠামো ও ভবিষ্যতের উপর।
এখন তাই বড় প্রশ্ন—ত্রিপুরা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন রেফারিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কবে কঠোর পদক্ষেপ নেবে? নাকি একের পর এক মাঠে রেফারিদের আক্রান্ত হওয়ার অভিযোগই সামনে আসতে থাকবে?
