আপডেট প্রতিনিধি, সোনামুড়া, ২৭ সেপ্টেম্বর || নলচর বিধানসভার অন্তর্গত বড়দোয়াল গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় নাবালিকা স্কুলছাত্রী রিয়া সাহার নিখোঁজের ঘটনাকে কেন্দ্র করে নতুন করে চাঞ্চল্য দেখা দিয়েছে। এবার এক স্কুলপড়ুয়া নাবালককে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর চেষ্টা ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রতিনিধি আনোয়ার খন্দকারের বিরুদ্ধে। ঘটনায় সরব হয়েছে নাবালক সাদ্দাম হোসেনের পরিবার।
পরিবারের অভিযোগ, গত ২৫ সেপ্টেম্বর রিয়া সাহা নিখোঁজ হওয়ার পর পরিবারের পক্ষ থেকে সোনামুড়া থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়। অভিযোগে সাইফুল ইসলাম নামে এক যুবকের বিরুদ্ধে রিয়াকে নিয়ে যাওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়। একইসঙ্গে ঘটনায় অন্য কারও সহযোগিতা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখারও দাবি জানানো হয়।
পরিবারের দাবি, ওই অভিযোগের পর গতকাল গভীর রাতে, প্রায় ১২টা নাগাদ, এলাকার স্কুলপড়ুয়া নাবালক সাদ্দাম হোসেনকে সোনামুড়া থানায় নিয়ে গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পরিবারের বক্তব্য অনুযায়ী, সাদ্দাম পুলিশকে জানিয়েছে, রিয়াকে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগে যার নাম উঠে এসেছে, তার সঙ্গে তার কোনো যোগাযোগ নেই এবং তাকে সে চেনেও না।
সাদ্দামের পরিবারের আরও অভিযোগ, পূর্বের একটি বিষয়কে কেন্দ্র করে পঞ্চায়েত প্রতিনিধি আনোয়ার খন্দকারের সঙ্গে তাদের পরিবারের বিরোধ তৈরি হয়েছিল। পরিবারের দাবি, একদিন মসজিদ থেকে নামাজ পড়ে বের হওয়ার পর আনোয়ার খন্দকার সাদ্দামকে বাইকে করে নিয়ে যান এবং অন্য একটি বিষয় সম্পর্কে তার কাছ থেকে তথ্য জানার চেষ্টা করেন।
পরবর্তীতে সাদ্দামের মা বিষয়টি জানতে পেরে পরিবারের সঙ্গে কথা না বলে কেন তার নাবালক ছেলেকে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। এরপর থেকেই দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ আরও বেড়ে যায় বলে পরিবারের দাবি।
পরিবারের অভিযোগ, পরবর্তীতে সাদ্দামকে ১০০টি নেশার ট্যাবলেট দিয়ে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়। এই অভিযোগ সামনে আসতেই ক্ষোভ প্রকাশ করেছে সাদ্দামের পরিবার।
পরিবারের স্পষ্ট দাবি, রিয়া সাহা নিখোঁজের ঘটনায় সাদ্দামের কোনো ধরনের সম্পৃক্ততা নেই। একজন স্কুলপড়ুয়া নাবালককে গভীর রাতে থানায় নিয়ে গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করার কারণ এবং এর পেছনে কারও প্ররোচনা বা নির্দেশ ছিল কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে পরিবার।
এদিকে, খবর প্রকাশের পর সাংবাদিকদের হুমকি দেওয়ার অভিযোগও সামনে এসেছে। পরিবারের অভিযোগ, বিষয়টি নিয়ে সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশের পর পঞ্চায়েত প্রতিনিধি আনোয়ার খন্দকার সাংবাদিকদের হুমকি দিয়েছেন। যদিও এই অভিযোগের বিষয়ে তার বক্তব্য এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।
তবে আনোয়ার খন্দকারের বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। একইভাবে রিয়া সাহার নিখোঁজের ঘটনায় সাদ্দামের কোনো ভূমিকা রয়েছে কি না, সেটিও তদন্তসাপেক্ষ বিষয়।
ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, প্রকৃত সত্য উদঘাটন এবং নাবালক সাদ্দাম হোসেনকে কোনো ধরনের অযথা হয়রানি না করার দাবি জানিয়েছে তার পরিবার। পাশাপাশি রিয়া সাহা নিখোঁজের ঘটনায় দ্রুত তদন্ত করে তাকে উদ্ধারেরও দাবি উঠেছে।
