বলরাম দেবনাথ, সাব্রুম, ৩০ সেপ্টেম্বর || দক্ষিণ ত্রিপুরা জেলার বিলোনিয়া মহকুমার ভারত-বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক সীমান্তবর্তী জয়পুর গ্রামে ১২১ ব্যাটালিয়ন সীমান্ত নিরাপত্তা বাহিনীর উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হলো “সিভিক অ্যাকশন প্রোগ্রাম”। সীমান্ত এলাকার সাধারণ মানুষের সঙ্গে বিএসএফের সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার পাশাপাশি ছাত্রছাত্রীদের শিক্ষা, খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে উৎসাহিত করার লক্ষ্যেই এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
এদিনের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ১২১ ব্যাটালিয়ন সীমান্ত নিরাপত্তা বাহিনীর আইজি শ্রীমতি প্রিন্সি রানী, আইপিএস। তাঁর উপস্থিতিতে জয়পুর উচ্চ বিদ্যালয়ে বিএসএফের উদ্যোগে একটি অত্যাধুনিক কম্পিউটার ল্যাবের উদ্বোধন করা হয়। সীমান্তবর্তী এলাকার বিদ্যালয়ে কম্পিউটার শিক্ষার সুযোগ আরও সম্প্রসারিত করার ক্ষেত্রে এই উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
অনুষ্ঠান থেকে হৃষ্যমুখ ও পোয়াংবাড়ি ব্লকের বিভিন্ন বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে শিক্ষা ও ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ করা হয়। বিতরণ করা সামগ্রীর মধ্যে ছিল ক্যারাম বোর্ড, ভলিবল, ফুটবল, পেন্সিল, ছাতাসহ বিভিন্ন প্রয়োজনীয় সামগ্রী। বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের পড়াশোনার পাশাপাশি নিয়মিত খেলাধুলায় অংশগ্রহণের জন্য উৎসাহিত করতেই এই সামগ্রীগুলি প্রদান করা হয়।
অনুষ্ঠানে ছাত্রছাত্রীদের অংশগ্রহণে একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানেরও আয়োজন করা হয়। সেখানে নাচ ও গানের মাধ্যমে সাংস্কৃতিক পরিবেশনা তুলে ধরেন বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীরা। তাদের পরিবেশনায় উপস্থিত অতিথি ও দর্শকদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যায়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ১২১ ব্যাটালিয়ন বিএসএফের কমান্ডিং অফিসার সুনীল মিশ্র, হৃষ্যমুখ ব্লকের চেয়ারম্যান শম্ভুনাথ কর, পোয়াংবাড়ি ব্লকের চেয়ারম্যান মনিবালা বৈদ্যসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকা, বিএসএফের আধিকারিক ও জওয়ান এবং এলাকার বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বিএসএফ আইজি শ্রীমতি প্রিন্সি রানী বলেন, সীমান্ত রক্ষার দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি সীমান্তবর্তী এলাকার সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানোও বিএসএফের কর্তব্য। বিশেষ করে ছাত্রছাত্রীদের ভবিষ্যৎ গঠনে শিক্ষা ও খেলাধুলা দুটিই গুরুত্বপূর্ণ। পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে ছাত্রছাত্রীদের অংশগ্রহণ তাদের সামগ্রিক বিকাশে সহায়ক হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
বিএসএফের এই সিভিক অ্যাকশন প্রোগ্রামকে ঘিরে সীমান্তবর্তী এলাকার মানুষের মধ্যেও উৎসাহ দেখা যায়। স্থানীয়দের বক্তব্য, সীমান্ত এলাকায় বিদ্যালয়ের পরিকাঠামো উন্নয়ন এবং ছাত্রছাত্রীদের প্রয়োজনীয় সামগ্রী প্রদানের মতো উদ্যোগ ভবিষ্যতে আরও এগিয়ে নিয়ে গেলে এলাকার শিক্ষাক্ষেত্রে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
