প্রান্তিক কৃষক ও জনজাতিদের মুখে হাসি ফোটাতে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সিন্ধিয়ার দরবারে ত্রিপুরার ঘরের মেয়ে প্রতিমা ভৌমিক, প্রত্যন্ত জনজাতি এলাকায় মোবাইল টাওয়ারের আকুল দাবি

গোপাল সিং, খোয়াই, ০১ অক্টোবর || পদ কিংবা ক্ষমতার মোহ তাঁর কোনোদিনই ছিল না; তাঁর আসল শক্তি ত্রিপুরার মানুষের প্রতি অনাবিল ভালোবাসা। প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হলেও রাজ্যের প্রতিটি মানুষের হাসি-কান্নার সাথে যে তিনি কতটা আষ্টেপৃষ্টে জড়িয়ে আছেন, তার প্রমাণ মিলল আবারও। ত্রিপুরা রাজ্যের গ্রামীণ অর্থনীতিতে নতুন জোয়ার আনা এবং প্রান্তিক পাহাড়ি ও সীমান্ত এলাকাগুলিতে যোগাযোগ ব্যবস্থা সুদৃঢ় করার লক্ষ্যে দূরদর্শী পদক্ষেপে সুদূর দিল্লিতে উড়ে গেলেন ত্রিপুরার সবার প্রিয় ‘দিদি’ প্রতিমা ভৌমিক।
বুধবার নতুন দিল্লিতে উত্তর-পূর্বাঞ্চল উন্নয়ন ও যোগাযোগ মন্ত্রকের কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জ্যোতিরাদিত্য এম. সিন্ধিয়ার সঙ্গে এক আবেগঘন ও সৌজন্য সাক্ষাতে মিলিত হন তিনি। রাজ্যের দুই জেলায় ৪টি প্রাইমারি এগ্রিকালচার রুর্যাল মার্কেট স্থাপন এবং সিপাহীজলা জেলার দুর্গম জনজাতি অধ্যুষিত এলাকায় মোবাইল নেটওয়ার্ক পরিষেবা পৌঁছানোর দাবিতে দুটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ স্মারকলিপি তুলে ধরেন তিনি। কেন্দ্রীয় মন্ত্রীকে দেওয়া প্রথম চিঠিতে প্রতিমা ভৌমিক তুলে ধরেন সিপাহীজলা জেলার কাঁঠালিয়া আর.ডি. ব্লকের অধীন থলিবাড়ি ও বাঁশপুকুর এবং পশ্চিম ত্রিপুরা জেলার ডি.এম. কলোনি ও আমগাছিয়া এলাকার হাজার হাজার কৃষিপ্রধান পরিবারের করুণ বাস্তবতার কথা। পর্যাপ্ত প্রক্রিয়াকরণ ও সঠিক বাজারের অভাবে কৃষকেরা তাঁদের ফসলের ন্যায্য মূল্য পান না। তিনি জোর দিয়ে জানান, ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে ত্রিপুরা সরকার প্রেরিত ডিপিআর অনুযায়ী উত্তর-পূর্ব পর্ষদ বা ‘ডোনার’ প্রকল্পের আওতায় এই ৪টি গ্রামীণ কৃষি বাজার দ্রুত মঞ্জুর করা হলে কেবল কৃষকই নন, গ্রামীণ নারী স্বসহায়ক দলগুলিও স্বাবলম্বী হয়ে উঠবেন।
শিক্ষা, চিকিৎসা কিংবা যোগাযোগের জন্য নেটওয়ার্ক এখন জীবনের অন্যতম অঙ্গ। অথচ সিপাহীজলা জেলার মোহনভোগ ব্লকের চন্দুল, জগৎরামপাড়া, উলুখলা (তাইবান্দাল), কালিকলা, নিদয়া ও ভবানীপুরসহ সংলগ্ন সীমান্ত এলাকার জনজাতি ভাই-বোনেরা এখনও একবিংশ শতাব্দীতে দাঁড়িয়ে নেটওয়ার্কের জন্য হাহাকার করছেন। জরুরি চিকিৎসার সময় যেন কোনো পাহাড়ি মায়ের কোল খালি না হয়, কোনো জনজাতি ছাত্রছাত্রীর শিক্ষা যেন ব্যাহত না হয়—সেই আবেগঘন আকুতি নিয়ে পিএম-জনমন ও অন্যান্য সরকারি প্রকল্পের অধীনে অবিলম্বে এসব দুর্গম এলাকায় নতুন মোবাইল টাওয়ার স্থাপনের জোরালো দাবি জানান তিনি।
বৈঠক শেষে এক আবেগঘন বার্তায় প্রতিমা ভৌমিক বলেন, “ত্রিপুরার প্রান্তিক ও প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের কাছে উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং কৃষিপণ্যের ন্যায্য বাজার পৌঁছে দেওয়াই আমার জীবনের ব্রত। রাজ্যবাসীর কষ্ট আমি চোখ বুজে সহ্য করতে পারি না। মাননীয় কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া জি অত্যন্ত সহানুভূতি ও গুরুত্বের সাথে প্রতিটি প্রস্তাব বিবেচনা করার দৃঢ় আশ্বাস দিয়েছেন। বিশ্বাস রাখি, আমার রাজ্যের কৃষক ও জনজাতি ভাই-বোনেরা খুব দ্রুতই এর সুফল পাবেন।”
ত্রিপুরা রাজ্যের প্রতিটি ইতিবাচক পরিবর্তনের পেছনে ছায়ার মতো দাঁড়িয়ে থাকেন প্রতিমা ভৌমিক। রাজধানীর অলিন্দ থেকে পাহাড়ি গ্রাম—ত্রিপুরার স্বার্থ রক্ষায় ‘দিদি’র এই নিরলস চেষ্টা প্রমাণ করে, পদের চেয়েও বড় হলো মানুষের প্রতি অকৃত্রিম দায়বদ্ধতা ও ভালোবাসা।

FacebookTwitterGoogle+Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*